জলাবদ্ধতার জন্য ‘ফ্যাসিস্টদের’ দায়ী করলেন রাসিক প্রশাসক
রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার জন্য ‘ফ্যাসিস্টদের’ দায়ী করেছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বালি, মাটি ও কংক্রিট দিয়ে ড্রেন ও নর্দমার মুখগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই অভিযোগ করেন। সাংবাদিকদের কয়েকটি পানি নিষ্কাশন স্থান দেখান তিনি। তিনি দাবি করেন, ওই স্থানগুলোতে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার জন্য বালি ও অন্যান্য সামগ্রী ফেলা হয়েছে।
রাসিক প্রশাসক বলেন, ফ্যাসিস্টরা আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং জনগণের সামনে খারাপ প্রমাণ করার জন্য একটি নতুন পরিকল্পনা করেছে। নগরবাসীদের তার ওপর আস্থা রাখতে ও সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টরা নর্দমায় বালি ফেলে পানির প্রবাহ আটকে দিয়েছে। তারা মেডিকেল কলেজের দিকে যাওয়া আরেকটি নর্দমাও বন্ধ করে দিয়েছে যাতে পানি চলাচল করতে না পারে। এগুলো করা হচ্ছে যাতে আমাকে দোষারোপ করা যায় এবং জনগণের সামনে আমাদের খারাপভাবে উপস্থাপন করা হয়।
মাহফুজুর রহমান রিটন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকও। এর আগে তিনি যুবদল ও ছাত্রদলের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য অভিযুক্ত কারও নাম উল্লেখ করেননি। কিংবা জলাবদ্ধতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবন্ধকতাগুলো তৈরি করা হয়েছিল এমন কোনো প্রমাণও দেননি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে পাঁচ ঘণ্টায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ওইদিন রামেক হাসপাতালের সামনে হাঁটু সমান পানি জমে। এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন স্থানে হাঁটু সমান পানি জমেছিল। এর একদিন পর তিনি এই মন্তব্য করেন। পানিতে ডুবে যাওয়ায় যাত্রীবাহী গাড়ির চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং শিক্ষার্থী ও বাসিন্দারা দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
রিটন বলেন, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করতে সারারাত কাজ করেছেন। তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজের আশপাশের এলাকা, জিরো পয়েন্ট ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ ছয়-সাতটি জলাবদ্ধতাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করেছেন। এই স্থানগুলোতে কেন পানি জমেছিল তা আমরা চিহ্নিত করেছি এবং আপনাদের সামনে তা উপস্থাপন করেছি। এখন আমি বিষয়টি নগরবাসীর ওপর ছেড়ে দিচ্ছি।
তিনি নগরবাসীদের নর্দমা অবরোধ না করার জন্যও আহ্বান জানিয়ে বলেন, নগরবাসীদের অনুরোধ করছি, তারা যেন নর্দমায় আবর্জনা, বালি বা মাটি না ফেলেন। পানির প্রবাহ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করুন।