রাজশাহীর ২৫ আদালতে ৭১ হাজার মামলার জট
বিচার বিভাগে মামলাজট ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে একদিকে যেমন সাক্ষ্য-প্রমাণ নষ্ট হয়, তেমনই বিচারপ্রার্থীদের মাঝেও বাড়তে থাকে হতাশা। তাই বিচার বিভাগের মামলাজট নিরসনে উদ্যোগেরও যেন শেষ নেই। তবু বছর শেষের হিসাবে নিষ্পত্তির হারের তুলনায় মামলাজট বৃদ্ধিতে হিমশিম খেতে হয় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগকে।
রাজশাহীর আদালতে প্রতিদিন শত শত বিচার প্রার্থী হাজির হন। জেলায় ফৌজদারি দেওয়ানি ও সাইবার ট্রাইব্যুনালের মামলার সংখ্যা বাড়ছে। তবে সে হারে মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে না। বছরের পর বছর ধরে মামলা চালাতে গিয়ে অনেকেই ভিটে মাটি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
বয়সের ভারে অনেকটা নুব্জ্য হয়ে পড়েছেন ৭৫ বছর বয়সী আবু তালেব। জমি সংক্রান্ত মামলায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে আদালতে হাজির হয়ে বিচার পাননি তিনি। তিনি বলেন, আদালতে আসলে প্রতিদিন টাকা দেওয়া লাগে। উকিলকে কম টাকা দিলে তিনিও নেন না।
১৩ বছরের থেকে মামলা চালাচ্ছেন আব্দুস সালাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, মামলার তারিখ থাকলে আদালতে আসি। একদিন সাক্ষী থাকে আবার কোনদিন কোর্ট বন্ধ থাকে। আবার ম্যাজিস্ট্রেটও থাকেন না। ১৩ সাল থেকে এই হয়রানি হতেই আছি। বাড়ি ঘর সব বিক্রি করতে হয়েছে এই মামলা চালাতে গিয়ে। জমিও বন্ধক রাখতে হয়েছে।
আইনজীবীরা বলছেন, বিচারক সংকট, যথাসময়ে সাক্ষী হাজির না হওয়া ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় বাড়ছে মামলার জট। দেখা যাচ্ছে কোনো আদালতে জজও ছিলেন, আসামি পক্ষের আইনজীবীও ছিলেন— কিন্তু সাক্ষী না আসার কারণে মামলার তারিখ আবার পিছিয়ে গেছে।
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পিপি আজিমুশসান উজ্জল বলেন, ৮০ থেকে ৯০টার মতো এজলাস আছে। তার মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ টা এজলাসে বিচার কাজ চলছে। বাকিগুলোতে হচ্ছে না। এতেই বিচারিক কার্যত স্থবির হয়ে যাচ্ছে। সময়মতো মামলার রায়ও পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে মামলার জট কমাতে দ্রুত বিচারক নিয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের তাগিদ রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী ও আইনজীবী নেতাদের। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট রইসুল ইসলাম বলেন, মামলার জট কমানোর জন্য আমরা যে সমস্যাগুলোতে ভুগছি এগুলো থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য বিচারালয়ের অবকাঠামো বাড়ানো দরকার। বিচারকের সংখ্যা এবং কোর্ট বাড়ানো দরকার।
রাজশাহী বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহেদী বলেন, মামলার জট কমাতে বিচারক বৃদ্ধি করতে হবে। চিফ জাস্টিস মহোদয়কে আমরা অনুরোধ করেছিলাম যে বিচারক সংখ্যা বৃদ্ধি করার। এবং এজলাস বৃদ্ধি করার জন্য আমাদের যে অবকাঠামো নির্মাণ করা প্রয়োজন সেটা আমরা অনুরোধ করেছিলাম। প্রধান বিচারপতি মহোদয় অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিতে কথা বলেছেন এবং উনি বলেছেন যে আমি বিষয়টা দেখছি।
জেলা ও মহানগরীর ২৫ টি আদালতে বর্তমানে প্রায় ৭১ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ১৪ টি বিচারিক পদের বিপরীতে কর্মরত ১০ জন চিফ জুডিশিয়াল ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ২৮ টি পদের বিপরীতে ২২ জন কর্মরত আছেন।