রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬

ঈশ্বরদীতে ইমাম-মুয়াজ্জিনের সরকারি সম্মানি ভাতার তালিকায় মসজিদ কমিটির নেতার নাম

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:২৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:২৩ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীতে ইমাম-মুয়াজ্জিনের সরকারি সম্মানি ভাতার তালিকায় মসজিদ কমিটির নেতার নাম
প্রতিকী ছবি

পাবনার ঈশ্বরদীতে সরকারিভাবে ইমাম মুয়াজ্জিনের মাসিক সম্মানি প্রদানের তালিকায় ইমাম বা মুয়াজ্জিনের নামের বদলে মসজিদ কমিটির নেতার নাম বসিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সরকারি সম্মানি প্রদানের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে এ  অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দীঘা জান্নাতুন-নুর জামে মসজিদের ইমামের নাম বাদ দিয়ে সেখানে মসজিদ পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষকে ইমাম এবং একজন ভুয়া মুয়াজ্জিনকে একই মসজিদের খাদেম বানিয়ে সরকারি তালিকা প্রস্তুত করে জমা দেওয়া হয়েছে উপজেলা পরিষদে। তালিকা সূত্রে জানা গেছে, দীঘা জান্নাতুন নুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আজিবার হোসেনের নাম বাদ দিয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ মমিনুল ইসলাম পিন্টু প্রামাণিক এবং মুয়াজ্জিন ও খাদেম পদে আনজারুল সরদার ও আতিয়ার রহমানের নাম দিয়ে ভুয়া তালিকা তৈরি করে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।



রোববার এ নিয়ে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন মসজিদ ও উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় মুসল্লি আমিরুল ইসলাম সরদারসহ বেশ কয়েকজন মুসল্লিরা অভিযোগ করে বলেন, ওই মসজিদের ইমাম আজিবার হোসেন আগে থেকেই ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি ভাতা পেয়ে আসছেন এবং এই মসজিদে নিয়োগকৃত কোনো মুয়াজ্জিন বা খাদেম নেই। মুয়াজ্জিন পদে সরকারি ভাতা পাওয়ার জন্য যে আনজারুল ইসলামের নাম দেওয়া হয়েছে তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিক এবং খাদেম পদে আতিয়ার রহমান নামে যার নাম দেওয়া হয়েছে তিনি নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত রয়েছেন। 


এ বিষয়ে জান্নাতুন নুর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকবর মোল্লা বলেন, মসজিদের প্রকৃত ইমাম আজিবার হোসেন অনেক আগে থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভাতা পান। নতুন করে ইমামের তালিকায় ভাতাভোগী হিসেবে তার নাম দিলে বাদ পড়ত, তাই তার নাম বাদ দিয়ে কমিটির কোষাধ্যক্ষ মমিনুল ইসলাম পিন্টুর নাম দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদটিতে নিয়োগকৃত কোনো মুয়াজ্জিন বা খাদেম নেই। যেহেতু তালিকা দিতে পারলে ভাতা পাওয়া যাবে এ জন্য মুয়াজ্জিন পদে আনজারুল সরদার ও খাদেম পদে আতিয়ার রহমানের নাম দিয়ে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হামিদ বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকায় অবস্থান করছি। কমিটির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করলেও এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।


এ বিষয়ে সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এমলাক হোসেন বাবু বিশ্বাস বলেন, ইউপি সদস্য মহাবুল ইসলাম ও মসজিদ পরিচালনা কমিটি এই তালিকা প্রস্তুত করে পরিষদে জমা দিয়েছে। সেটি উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। তবে ভুয়া তালিকার বিষয়ে তিনি অবগত নন।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, তালিকা তৈরির দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের ওপর দেওয়া হয়েছিল। তারাই তালিকা তৈরি করে উপজেলায় পাঠিয়েছে। তবে অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সারা দেশে প্রতি মাসে ইমামদের ৫ হাজার, মুয়াজ্জিনদের ৩ হাজার ও খাদেমদের ২ হাজার টাকা করে সম্মানি প্রদানের জন্য তালিকা চাওয়া হয়েছে। ঈশ্বরদীতে প্রথম পর্যায়ে প্রতি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি করে মসজিদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দীঘা ফুটবল মাঠ সংলগ্ন জান্নাতুন নূর জামে মসজিদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়।