বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিজের টাকা হাতে, ফিরছে আমানতকারীদের স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২৬ অপরাহ্ন
দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিজের টাকা হাতে, ফিরছে আমানতকারীদের স্বস্তি

দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকে জমা থাকা নিজের টাকার খোঁজে শাখায় এসেছেন গ্রাহকেরা। একসময় যে ব্যাংকের কাউন্টারে টাকা তুলতে এসে ফিরতে হয়েছে হতাশ হয়ে, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সেই কাউন্টার থেকেই মিলেছে আমানতের টাকা। কারও হাতে ফুল, কারও মুখে মিষ্টি- তবে সবচেয়ে বড় বিষয়, দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর নিজের টাকা হাতে পাওয়ার স্বস্তি। সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র অধীনে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের গ্রাহকেরা এখন নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী নিজ নিজ শাখা থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারছেন।


সরেজমিনে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহী নগরউর অলকার মোড়ে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহকেরা টাকা তুলতে এসেছেন। তাঁদের স্বাগত জানাতে ফুল ও মিষ্টির আয়োজন করেছে শাখা কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিনের সংকটের পর এমন পরিবেশে কারও চোখে স্বস্তি, আবার কারও মনে এখনো পুরোপুরি কাটেনি সংশয়।


শাখা ব্যবস্থাপক আরিফ শাহনেওয়াজ বলেন, শাখাটিতে মোট ১৩ হাজার ৮১৮ জন গ্রাহক রয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৫৫ জন টাকা উত্তোলনের আবেদন করেছেন। তাঁদের অনুকূলে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, গত মাসের ১ তারিখ থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হয়। যাঁরা আবেদন করেছিলেন, তাঁদের আজকে থেকে টাকা দেওয়া হচ্ছে। গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ দিতে ব্যাংক প্রস্তুত রয়েছে। শাখায় আবেদন করার পর প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে।


দীর্ঘ বিরতির পর টাকা হাতে পেয়ে গ্রাহক আব্দুল হালিম বলেন, ‘আজকে ব্যাংকের লেনদেনের সমস্যার সমাধান হতে দেখছি। আমি নিজেও টাকা তুলতে পেরেছি। ব্যাংকের গেটে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, মিষ্টিমুখ করানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার পর বিষয়টি সত্যিই ভালো লেগেছে।’


তবে অতীতের সংকটের কথা ভুলতে পারছেন না তিনি। তাঁর ভাষায়, দীর্ঘ সময় ঠিকভাবে লেনদেন করতে না পারার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।


প্রায় ২৫ বছর ধরে ব্যাংকটির সঙ্গে লেনদেন করছেন কামরুজ্জামান জনি। তাঁর ডিপিএসের ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পুরোপুরি বুঝে পেয়েছেন। তবে টাকা তুলে ব্যাংক ছাড়েননি তিনি। বরং নতুন করে আরেকটি ডিপিএস হিসাব খুলেছেন।


জনি বলেন, ‘মাঝখানে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল, স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা ছিল। কিন্তু আজ পুরো টাকা বুঝে পেয়েছি। সেবায় সন্তুষ্ট হয়েই আবার নতুন করে ডিপিএস খুলেছি।’ নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আমানতকারীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তাঁদের জমাকৃত অর্থ তুলতে পারবেন। তবে মেয়াদপূর্তির আগে এককালীন পুরো অর্থ তুলে নিলে অতিরিক্ত মুনাফা পাওয়া যাবে না। আর যাঁরা হিসাব চালু রাখবেন, তাঁরা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মুনাফা পাবেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, পাঁচ ব্যাংকের সংকট কাটিয়ে নতুন কাঠামোয় গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সোমবারের টাকা উত্তোলন সেই পথচলার শুরু হলেও, দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট পুরোপুরি কাটাতে সময় লাগবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।