রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক যৌথ গবেষণা টেকসই উন্নয়নে সবুজ অর্থনীতি, ফিনটেক ও আর্থিক খাতের ভূমিকা

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:০৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:০৯ অপরাহ্ন
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক যৌথ গবেষণা টেকসই উন্নয়নে সবুজ অর্থনীতি, ফিনটেক ও আর্থিক খাতের ভূমিকা

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের উদ্যোগে ÒResearch Outcomes Dissemination and Stakeholder Engagement SessionÓ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ ও অংশীজন সম্পৃক্ততা বিষয়ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক যৌথ গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল শিল্পখাতের প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, গণমাধ্যমকর্মী এবং অন্যান্য অংশীজনদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।



এই যৌথ গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম। গবেষণাটি যৌথভাবে সম্পন্ন হয়েছে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলাদেশ), ও INTI International University (মালয়েশিয়া), Putra Business School, Universiti Putra Malaysia (মালয়েশিয়া), ঈড়সরষষধ টহরাবৎংরঃু (বাংলাদেশ) এবং International Islamic University Chittagong(বাংলাদেশ)-এর গবেষকদের সমন্বয়ে।


গবেষণাটির শিরোনাম “টহাবরষরহমÒUnveiling the roles of green tax, financial development, banking development, fintech adoption, and economic growth on sustainable development in BangladeshÓ। এই গবেষণাটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রকাশনা সংস্থা Elsevier-এর World Development Sustainability জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা একটি ঝপড়ঢ়ঁং-রহফবীবফ ছ১ মানের আন্তর্জাতিক জার্নাল।  গবেষণায় ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে সবুজ কর (এৎববহ ঞধী), আর্থিক উন্নয়ন, ব্যাংকিং উন্নয়ন, ফিনটেক গ্রহণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কীভাবে দেশের টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে তা মূল্যায়ন করা হয়েছে।


গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ফিনটেকের উন্নয়ন আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতে সবুজ অর্থায়নের নতুন সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, সামাজিক উন্নয়ন এবং দায়িত্বশীল বিনিয়োগের সঙ্গে সমন্বয় করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।


গবেষণায় আরও সুপারিশ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতেESG (Environmental, Social and Governance) ভিত্তিক কার্যক্রম, সবুজ ঋণ ব্যবস্থা এবং টেকসই অর্থায়ন নীতি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও পরিবেশগত ভারসাম্যের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা সম্ভব হবে।


অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা শুধু একাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্পখাত, সরকার, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিচালিত এ ধরনের যৌথ গবেষণা বাংলাদেশের উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


গবেষণার নীতিগত গুরুত্ব ((Policy Implications):: এই গবেষণার ফলাফল বাংলাদেশের নীতি প্রণয়ন ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে। গবেষণাটি সুপারিশ করে যে, সরকারকে কার্যকর সবুজ কর নীতি, পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ কাঠামো এবং টেকসই অর্থায়নের জন্য উপযুক্ত নীতিগত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঊঝএ ভিত্তিক ঋণ প্রদান, সবুজ প্রকল্পে অর্থায়ন এবং পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় হতে হবে। ফিনটেকের বিস্তারকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি করা এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজিটাল ও সবুজ ব্যবসার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সমাজ গঠনের পথে এগিয়ে যেতে পারে।


অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিচালিত এ ধরনের উচ্চমানের গবেষণা বাংলাদেশের উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আর্থিক খাতের ভবিষ্যৎ এবং টেকসই নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা যখন শিল্পখাত, সরকার ও সমাজের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা বাস্তব উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।


বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ ভবিষ্যতেও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার মাধ্যমে উচ্চমানের গবেষণা পরিচালনা এবং গবেষণার ফলাফল সমাজ ও শিল্পখাতের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।


ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্ট এবং নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক-এর অতিরিক্ত পরিচালক এ. কে. এম. আমিরুল ইসলাম, সোনালী ব্যাংক-এর প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ সোহরাব আহমেদ, গ্রামীণফোন, রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান(মার্কেটিং) নাদিম শাহরিয়ার, সোনালী ব্যাংক-এর সিনিয়র অফিসার সাহেদুল বাসার, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক-এর প্রিন্সিপাল অফিসার তন্বী রানী দত্ত এবং সোনালী ব্যাংক মৌগাছী ব্রাঞ্চ-এর ম্যানেজার (প্রিন্সিপাল অফিসার) মো. মিজানুর রহমান। 


সভাপতিত্ব করেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. কানিজ হাবিবা আফরিন। আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগের কো-অর্ডিনেটর ড. রেজাউল করিম, সহযোগী অধ্যাপক আতিয়া আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক সিরাজুম মনির প্রতিকসহ অন্যান্যরা।