পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার নিচে, টি-বাঁধে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় নদীর দক্ষিণে ভারত সীমান্তঘেঁষা চরখিদিরপুর, খানপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে এসব এলাকার বেশ কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পদ্মার পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক ২২ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ৩৩ মিটার। বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার হওয়ায় বর্তমানে শূন্য দশমিক ৭২ মিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে টি-বাঁধে চলাচলে পরিদর্শন বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সরে যেতে বলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। টি-বাঁধটি পুলিশ লাইনস-সংলগ্ন নগরের শ্রীরামপুর এলাকায় অবস্থিত। প্রমত্তা পদ্মার স্রোত সরাসরি শহরের অন্যান্য এলাকায় যেন না আসে, সে জন্য ইংরেজি ‘টি’ বর্ণের মতো এই বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। টি-বাঁধের এক পাশে স্রোত ধাক্কা দিয়ে পানি আবার গভীর পদ্মার দিকে চলে যায়। এর ফলে শহরের বড় একটি এলাকা রক্ষা পেয়ে থাকে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর জানান, পদ্মার পানি বাড়লেও এখনও শহর রক্ষা বাঁধ নিয়ে কোনও ঝুঁকি তৈরি হয়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ১৯ মিটার। শনিবার সকাল ৯টায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ২২ মিটারে। সন্ধ্যা ৬টায় রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ৩৩ মিটার। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে গত প্রায় ১০ দিন ধরে পদ্মায় পানি বাড়ছে। শুক্রবার দুপুর ১২টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ০৫ মিটার। তিন ঘণ্টা পর বেলা ৩টায় তা বেড়ে ১৭ দশমিক ১২ মিটারে পৌঁছায়। ওই সময়ে তিন ঘণ্টায় পানি বেড়েছিল ৭ সেন্টিমিটার।
এ দিকে পানি বাড়ায় রাজশাহী শহরের বিপরীতে পদ্মার ওপারে চরখিদিরপুর ও খানপুর এলাকার বেশির ভাগ অংশ তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়া পরিবারগুলো খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দী মানুষের মধ্যে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি বিবেচনায় পানিবন্দী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। পদ্মার পানি আরও বাড়লে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।