রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

চারঘাটে খাল খনন পরিদর্শনে প্রকল্প পরিচালক রাসেল সাবরিন

চারঘাট প্রতিনিধি ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৪৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
চারঘাট প্রতিনিধি ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৪৫ অপরাহ্ন
চারঘাটে খাল খনন পরিদর্শনে প্রকল্প পরিচালক রাসেল সাবরিন

রাজশাহীর চারঘাটে দীর্ঘদিনের ‘মরা খাল’ হিসেবে পরিচিত ইচিমারির খাল পুনঃখননের কাজ পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক রাসেল সাবরিন।


শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের ঝাউবোনা এলাকায় খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় প্রকল্পের কাজ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রকল্প পরিচালক।


একসময় খালটিতে ইচি (চিংড়ি) মাছের এতই প্রাচুর্য ছিল যে স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছিলেন ‘ইচিমারির খাল’। বছরের পর বছর পলি জমে বড়াল নদী ও মুসা খাঁ নদীর সংযোগকারী খালটি ভরাট হয়ে গেলে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে লোকমুখে খালটি ‘মরা খাল’ নামে পরিচিতি পায়।


দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১০ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ইচিমারির খালের পুনঃখননের কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এতে বড়াল নদী ও মুসা খাঁ নদীর মধ্যে আবারও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে। খালের পানিতে ইতোমধ্যে পাট জাগ দেওয়া শুরু করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।


উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’র আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চারঘাট উপজেলার এ খাল পুনঃখননের জন্য প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। উপজেলার ঝাউবোনা থেকে বড়াল নদী হয়ে নিমপাড়ার মুসা খাঁ নদী পর্যন্ত খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। খাল পুনঃখননের পাশাপাশি দুই পাড় সংরক্ষণ, পাড়ঘেঁষা রাস্তা সংস্কার এবং দুই পাশে দুই হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে। প্রকল্পের যাচাই-বাছাইসহ পুনঃখনন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক রাসেল সাবরিন।


খাল পুনঃখননের ফলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মহীন মৌসুমে অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

ভাটপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, ‘ভাগ্যিস খালটা খনন হয়েছে। না হলে এত পাট কোথায় জাগ দিতাম? গত বছর ১৩ কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে পাট জাগ দিতে হয়েছে। এবার বাড়ির পাশের খালেই পাট জাগ দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, বড়াল ও মুসা খাঁ নদীর পানি বাড়লে খালে আরও বেশি পানি চলাচল করবে। এতে দেশীয় মাছও বাড়বে।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ লতিফ বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষকদের দীর্ঘদিনের সেচ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা কমার পাশাপাশি অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।


এদিকে প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও নিয়মিত তদারকি থাকলে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যেই মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।’ কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।


শনিবার সকালে খাল খনন পরিদর্শনকালে প্রকল্প পরিচালক রাসেল সাবরিন কাজের অগ্রগতি ও মান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ লতিফ, বাঘা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু বাশির এবং নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজানকে ধন্যবাদ জানান।

পরিদর্শন শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি আমলকি চারা রোপণ করেন প্রকল্প পরিচালক রাসেল সাবরিন।