পত্নীতলায় বাস-সিএনজি শ্রমিকদের বিরোধ, ধর্মঘটে দুর্ভোগে যাত্রীরা
নওগাঁর পত্নীতলায় বাস ও সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদের মধ্যে মারামারির ঘটনার জেরে জেলার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। রোববার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যেতে গিয়ে তাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া, পাশাপাশি সময়ও লাগছে বেশি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে বাস শ্রমিক ও সিএনজি অটোরিকশা চালকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরে পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ডে বাসচালক রুবেল হোসেন ও এক সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগ ওঠে সিএনজি চালকদের বিরুদ্ধে।
মারধরে গুরুতর আহত রুবেল হোসেনকে প্রথমে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজশাহী, জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ জেলার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন বাস শ্রমিকরা।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দূর-দূরান্তের যাত্রীরা। সাপাহার থেকে আদালতে মামলার হাজিরা দিতে নওগাঁ শহরে আসা আফসার আলী বলেন, “সাপাহার বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি বাস চলাচল বন্ধ। পরে বাধ্য হয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তিন দফায় নওগাঁ শহরে আসতে হয়েছে। সাধারণত ১৫০ টাকা ভাড়া লাগলেও প্রায় ২০০ টাকা দিতে হয়েছে। সময়ও লেগেছে প্রায় দেড় ঘণ্টা।”
নওগাঁ শহর থেকে পত্নীতলার নজিপুরে যাওয়ার জন্য বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে আসা রফিকুল বলেন, “বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যেতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। শ্রমিকদের দ্বন্দ্বের কারণে মাঝেমধ্যে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়—এটা খুবই দুঃখজনক।”
বাস মালিক এনামুল হক বলেন, “সিএনজিতে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে বাসচালকের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। পরে পত্নীতলার নজিপুরে বাসচালক ও সুপারভাইজারকে সিএনজি চালকরা মারধর করেন। এর প্রতিবাদে বাস শ্রমিকরা অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশায় যাত্রী নিয়ে শহরের বাইরে পরিবহনের বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু এরপরও শহর ও আঞ্চলিক মহাসড়কে সিএনজি চলাচল করে। এ নিয়ে প্রায়ই বিরোধ তৈরি হয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক মহাসড়কে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে। বিষয়টির একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”
পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, বাস ও সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন। এর পর শনিবার বিকেল থেকেই বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, “সড়কে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নজিপুর বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন সড়কে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”