লালপুরে সারের স্টক রেজিস্টারে গরমিল, ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
নাটোরের লালপুরে স্টক রেজিস্টারের তথ্যের সঙ্গে মজুদের গরমিল পাওয়ায় বিএডিসির এক সার ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই ডিলারের বিরুদ্ধে সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে অভিযোগ ওঠার একদিন পরই প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কদিমচিলান ইউনিয়নের চাঁদপুর বাজারে ‘সাইফুল ট্রেডার্স’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
লালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবির হোসেনের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানের মজুদের সঙ্গে স্টক রেজিস্টারে থাকা তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়া যায়। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় ও ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাইফুল ট্রেডার্সের বরাদ্দ করা সার একটি ভ্যানে করে পার্শ্ববর্তী বড়াইগ্রাম উপজেলার কয়েন এলাকার ‘ভাই ভাই ট্রেডার্স’ নামের একটি দোকানে নেওয়া হচ্ছে। ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে ডিলার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ ওঠে।
ভিডিওতে থাকা ভ্যানচালক জসিম উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, ডিলার সাইফুল ইসলামই তাকে সারগুলো বিক্রির জন্য বড়াইগ্রামের কয়েন এলাকায় পাঠিয়েছেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কদিমচিলান ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তাদের অভিযোগ, সার কিনতে গেলে ডিলার সাইফুল ইসলাম প্রায়ই ‘সার নেই’ বলে ফিরিয়ে দেন। অথচ বরাদ্দ পাওয়া সার অন্যত্র বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, “আমরা সার নিতে গেলে সার নেই বলে দেওয়া হয় না। অথচ আমাদের চোখের সামনে কালোবাজারে সার বিক্রি করা হচ্ছে।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাইফুল ট্রেডার্সের ডিলারশিপ স্থায়ীভাবে বাতিলেরও দাবি জানান তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়া ও অভিযোগ ওঠার পরদিনই সাইফুল ট্রেডার্সে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে স্টক রেজিস্টারের তথ্যের সঙ্গে মজুদের গরমিল পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবির হোসেন বলেন, “কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”