নাটোরে সোনালী ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত, দুইজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের এক কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ, ভুয়া ঋণপত্র তৈরি এবং অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি দেখানোর অভিযোগে নাটোরে সোনালী ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে চারজনই বিভিন্ন সময়ে শাখা ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁদের স্ব স্ব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে ব্যাংকের প্রধান শাখায় সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের ভিজিল্যান্স অ্যান্ড কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন থেকে নাটোর ও নওগাঁর প্রধান শাখায় চিঠি পাঠিয়ে এসব নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক লিটন কুমার ও সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার বিপ্লব কুমার পালের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশের সব ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে বার্তা পাঠানো হয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি নাটোর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন বাজার, গুরুদাসপুর ও চাঁচকৈড় শাখায় অভ্যন্তরীণ ও বিশেষ অডিট পরিচালনা করে। অডিটে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া ঋণ সৃষ্টি এবং আমানতের পরিমাণ অতিরিক্ত দেখানোর মতো অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।
অডিট প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নাটোর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক লিটন কুমার, বর্তমানে নওগাঁর প্রিন্সিপাল শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার, জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের ৯২ লাখ ৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার এবং বর্তমানে নওগাঁর টিটিডিসি শাখার ব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার পালের বিরুদ্ধে ৩৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
অডিটে তাঁদের বিরুদ্ধে ভুয়া ঋণপত্র তৈরি এবং আমানতের পরিমাণ অতিরিক্ত দেখানোর অভিযোগও উঠে এসেছে।
এ ছাড়া নাটোর স্টেশন বাজার শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক, বর্তমানে প্রধান শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এএইচএম রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৪৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকার ভুয়া ঋণ সৃষ্টি ও অতিরিক্ত আমানত দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গুরুদাসপুর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক, বর্তমানে প্রধান শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একই ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে ৭৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকা দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে চাঁচকৈড় শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক এবং বর্তমানে বড়াইগ্রাম শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার ভুয়া ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধির তথ্য অডিটে উঠে এসেছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে তিনি ‘সেরা শাখা ব্যবস্থাপক’ হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অডিটে উঠে আসা এসব অনিয়মের পর পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে প্রধান শাখায় সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে অডিটে উঠে আসা অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এ পদক্ষেপের ফলে প্রশ্ন উঠেছে, শাখা পর্যায়ে দীর্ঘ সময় ধরে ভুয়া ঋণ, আমানত বৃদ্ধির তথ্য ও আর্থিক অনিয়ম কীভাবে নজরদারির বাইরে থাকল। বিশেষ করে একাধিক শাখায় একই ধরনের অনিয়মের তথ্য অডিটে উঠে আসায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।#