বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

বরেন্দ্র অঞ্চলের ১৫ হাজার গভীর নলকূপ সৌরচালিত করার পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৪৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
বরেন্দ্র অঞ্চলের ১৫ হাজার গভীর নলকূপ সৌরচালিত করার পরিকল্পনা

বরেন্দ্র অঞ্চলের সেচব্যবস্থাকে আধুনিক, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) আওতাধীন প্রায় ১৫ হাজার গভীর নলকূপ পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।


সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিএমডিএর প্রধান কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ পরিকল্পনার কথা জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান (সচিব পদমর্যাদা) কৃষিবিদ মো. হাসান জাফির তুহিন।

সভায় বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান (গ্রেড-২)সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সভাপতির বক্তব্যে হাসান জাফির তুহিন বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার গভীর নলকূপকে পর্যায়ক্রমে সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে। এতে একদিকে বিএমডিএর বিদ্যুৎ ও পরিচালন ব্যয় কমবে, অন্যদিকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে।


তিনি বলেন, সৌরনির্ভর সেচব্যবস্থা চালু হলে কৃষকের সেচ ব্যয় কমানো, সময়মতো সেচ নিশ্চিত করা এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও টেকসই করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।


চেয়ারম্যান আরও বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রতিটি এলাকার কৃষককে উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে। প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় ১৬টি জেলায় ছোট ছোট প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে, যাতে উন্নয়নের সুফল সব এলাকার মানুষ পায়।


তিনি বলেন, কৃষি, সেচ, পানি ব্যবস্থাপনা ও সৌরবিদ্যুতের সমন্বিত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করা জরুরি। বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে ছোট আকারের কয়েকটি প্রকল্প ইতোমধ্যে সরকারের সবুজ পাতায় স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি মহানন্দা নদীকে ঘিরে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে এবং বরেন্দ্র মেগা প্রকল্পের কাজের ফাইলও এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি।


কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএমডিএ চেয়ারম্যান বলেন, কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে স্থানীয় কৃষক ও জনগণের সমস্যা ও প্রয়োজন জানতে হবে। বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্প নেওয়া হলে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কোনো জমি যেন পানির অভাবে অনাবাদি না থাকে, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল হতে হবে। বিএমডিএর কমান্ড এলাকার যেসব গভীর নলকূপ বিভিন্ন কারণে বন্ধ রয়েছে, সেগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।


তিনি বলেন, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরেজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। আসন্ন সেচ মৌসুম শুরুর আগেই বন্ধ গভীর নলকূপগুলো সচল করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি পানি ও জ্বালানির অপচয় রোধ করে আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


সৌরচালিত সেচ পাম্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের ধারণাটি বাংলাদেশে চলমান সৌরসেচ পরিকল্পনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারি রোডম্যাপেও বিএমডিএকে সৌরসেচ পাম্প ও গ্রিড সংযুক্তির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


মতবিনিময় সভায় বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আবুল কাসেম, সচিব মো. মেহেদী হাসান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল লতিফ, এটিএম মাহফুজুর রহমান, মো. নাজিরুল ইসলাম, শিবির আহমেদ, মো. জিন্নুরাইন খান, মো. সমসের আলী, মোসা. রুবিনা খাতুন, নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল কাদির, হারুন-অর-রশিদ, মো. তোফাজ্জল আলী সরকার, মো. তরিকুল ইসলাম, এ.এস.এম দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।