শুধু ভারতীয় পাইলট নয়, মাঝআকাশে বিপদের আঁচ পেয়েছিল ৬ বছরের শিশুকন্যাও!
সম্প্রতি দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর বিমানে মাঝ আকাশে ভয়াবহ হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। ককপিটের ভেতর ওমানের সহকারী পাইলট অতর্কিতে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করেন ভারতীয় প্রধান পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারকে। অভিযোগ, বিমানটিকে ক্র্যাশ করানোর উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়।
একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমানের শৌচাগারের বাইরে দাঁড়িয়ে ঘটনার আঁচ পেয়েছিল ছয় বছরের শিশুকন্যা নিা মানেস ও তার মা তালি।
তাঁদের চিৎকারে বিপদ বুঝে ছুটে যান নিার বাবা তজভিকা মানেস ও অন্য দুই যাত্রী। রক্তাক্ত অবস্থাতেই ক্যাপ্টেন মচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দিলে যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন।
ততক্ষণে কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে যায় বিমানটি। এরপর পরিস্থিতি সামাল দেন বিমানে থাকা এক অফ-ডিউটি পাইলট। তিনি বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে নামিয়ে আনেন।
এই অসামান্য সাহসিকতার জন্য ক্যাপ্টেন ও যাত্রীদের প্রশংসা করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। একইসঙ্গে ফোনে গুরুতর আহত ক্যাপ্টেন মচ্ছারের সঙ্গে কথা বলে তাঁর অদম্য সাহসের কুর্ণিশ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।
প্রসঙ্গত, পাইলট স্মিথ আক্রান্ত হওয়ার পর রক্তে ভেসে যাচ্ছিল চারিদক। ঠিক সেই সময় ক্যাপ্টেন মাচ্ছর ককপিটের দরজা খুলে দিতে পেরেছিলেন। ফলে যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে সহ-পাইলটের বিমান ক্র্যাশ করানোর চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন।
মাচ্ছর আহত হতেই বিমানটি ৩০ সেকেন্ডের কম সময়ে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। তবে শেষমেষ প্রাণে বাঁচেন সকল যাত্রী। বিমানেই ছিলেন ফ্লাইদুবাই-এর আরও দুজন পাইলট। তাঁরাই বিমান নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুকে ল্যান্ড করান।
নেতানিয়াহু বলেন, “রক্তে ভেসে যাওয়া সত্ত্বেও ওই ভারতীয় পাইলট অবিশ্বাস্য সাহসের পরিচয় দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন।” পরে সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি পাইলট মাচ্ছরকে ‘প্রকৃত নায়ক’ বলে অভিহিত করেন এবং তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
ভারতীয় নাগরিক স্মিত মাচ্ছর বিগত ৪ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সরকারি বিমান সংস্থা ‘ফ্লাইদুবাই’-এ কর্মরত। এর আগে তিনি টানা ১০ বছর ভারতের ‘স্পাইসজেট’-এ কাজ করেছেন। বোয়িং ৭৩৭ চালনায় তাঁর ৯,৭৫০ ঘণ্টারও বেশি উড়ানের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সম্প্রতি তাঁর ভাই-ও এই সংস্থাতে যোগ দিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন