বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালানোর অভিযোগে ডিআর কঙ্গোর ২৭ সেনার মৃত্যুদণ্ড

সোনার দেশ ডেস্ক ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ০২:০৭ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ০২:০৭ অপরাহ্ন
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালানোর অভিযোগে ডিআর কঙ্গোর ২৭ সেনার মৃত্যুদণ্ড
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালানোর অভিযোগে ডিআর কঙ্গোর ২৭ সেনার মৃত্যুদণ্ড/ ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) ২৭ সেনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সামরিক আদালত। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উভিরার একটি সামরিক আদালত এ রায় দেন।


আদালতের নথি অনুযায়ী, আফসি/এম২৩ বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় দায়িত্ব পালন না করে সম্মুখসারি থেকে সরে যাওয়ার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। এ অভিযোগে তাদের এ সাজা দেওয়া হয়েছে।


২১তম সিম্বা ব্যাটালিয়নের অন্তত ১১২ সেনার বিচার শুরু হয় গত ১৫ সেপ্টেম্বর। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত আগস্টে পূর্ব কঙ্গোতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য করে তারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে যান।


আদালত জানিয়েছেন, নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে ৫৪ সেনাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও ১০ সেনাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তবে, পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় অন্তত ২১ সেনাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাস পাওয়া সেনাদের মধ্যে পাঁচজন নারী রয়েছেন বলে জানা গেছে।


উভিরা শহরের আশপাশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো নিরাপদ রাখতে এসব সেনাকে মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে, বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় তাদের কয়েকজন সম্মুখসারি থেকে সরে যান বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।


এর আগে, গত মে মাসে একই ধরনের অভিযোগে ৫৮ কঙ্গোলিজ সেনাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন দেশটির একটি সামরিক আদালত। আফসি/এম২৩ বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় নির্দেশ অমান্য করে সম্মুখসারি থেকে সরে যাওয়ার অভিযোগে তাদের এ সাজা দেওয়া হয়েছিল।


এদিকে, পূর্ব কঙ্গোর উভিরা অঞ্চলে আফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। একই সঙ্গে, দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।


পূর্ব কঙ্গোর দীর্ঘদিনের সংঘাতের অন্যতম প্রধান পক্ষ এম২৩ বিদ্রোহীরা। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে গোমা ও বুকাভু শহর দখলের পর থেকে গোষ্ঠীটি পূর্ব কঙ্গোর বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।


এদিকে ডিআর কঙ্গো, জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী রুয়ান্ডার বিরুদ্ধে এম২৩ বিদ্রোহীদের সমর্থনের অভিযোগ করে আসছে। তবে, রুয়ান্ডা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।


তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, জাগোনিউজ