জার্মানির ঐতিহাসিক বিয়ার উৎসবে দুই সপ্তাহে ৭৪ লাখ মানুষ
রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া ও উৎসবের আমেজে জার্মানির মিউনিখের ঐতিহ্যবাহী অক্টোবরফেস্টে এবার দর্শনার্থীর সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। জার্মানির বিভিন্ন শহর থেকে প্রবাসী বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নিয়েছেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) জার্মানির মিউনিখে দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিশ্বখ্যাত বিয়ার উৎসব অক্টোবরফেস্টের ২০২৬ সালের আসর শেষ হয়েছে।
আয়োজকদের হিসাব অনুযায়ী, এবার উৎসবে প্রায় ৭৪ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন।
১৬ দিনের এই আয়োজনে এত বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী আগে কখনো আসেননি। এর আগে ২০২৩ সালে ১৮ দিনব্যাপী উৎসবে ৭২ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
আয়োজকদের মতে, গ্রীষ্মের শেষ দিকের উষ্ণ ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া এবার দর্শনার্থী বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। মিউনিখের নতুন মেয়র ডমিনিক ক্রাউজে সমাপনী অনুষ্ঠানে উৎসবের পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ, স্বস্তিদায়ক ও আনন্দমুখর বলে অভিহিত করে সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
অক্টোবরফেস্ট কী?
অক্টোবরফেস্ট জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যের রাজধানী মিউনিখে আয়োজিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ লোকজ উৎসব। ১৮১০ সালের ১২ অক্টোবর বাভারিয়ার যুবরাজ লুডভিগ ও স্যাক্সনি-হিল্ডবুর্গহাউজেনের রাজকন্যা তেরেসার বিয়ের উদ্যাপন উপলক্ষে প্রথমবারের মতো এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল।
ঘোড়দৌড় ও নানা আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সেই অনুষ্ঠান পরে বার্ষিক উৎসবে পরিণত হয়। বর্তমানে সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ ভাগ থেকে অক্টোবরের প্রথম রোববার পর্যন্ত চলে এই উৎসব। বিয়ার, ঐতিহ্যবাহী খাবার, লোকসংগীত, পোশাক ও বিভিন্ন বিনোদন আয়োজনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত অক্টোবরফেস্টে প্রতিবছর লাখো মানুষ অংশ নেন।
বিয়ার বিক্রিতে নতুন রেকর্ড
দর্শনার্থীর পাশাপাশি উৎসবে বিভিন্ন ধরনের পানীয় ও খাবারের বিক্রিও রেকর্ড ছাড়িয়েছে। মিউনিখের বিয়ার বিক্রির সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, এবার প্রায় ৬৭ লাখ এক লিটার ধারণক্ষমতার বিয়ারের ক্যান পরিবেশন করা হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫ লাখ। অর্থাৎ বিয়ার বিক্রি বেড়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
অ্যালকোহলবিহীন পানীয়ের বিক্রি বেড়েছে ১০ শতাংশ। খাবারের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী রোস্ট মুরগির চাহিদাও বেড়েছে। অনুষ্ঠানে খাবারের আয়োজকেরা জানিয়েছেন, খাবার বিক্রি গত বছরের তুলনায় ২ থেকে ৩ শতাংশ বেশি হয়েছে।
শিশুদের উৎসবেও দর্শনার্থী বেড়েছে
বাভারিয়ার রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এবারের উৎসবের প্রথম সপ্তাহেই থেরেসিয়েনভিজের মাঠে জড়ো হয়েছিলেন ৩৮ লাখ মানুষ। দ্বিতীয় সপ্তাহে শিশুদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ দিনে গত বছরের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা ৫৭ শতাংশ বেশি ছিল।
ঐতিহ্যবাহী ‘অয়ডে ভিজেন’ অংশে এবার ৪ লাখ ৪৭ হাজার মানুষ এসেছিলেন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬০ হাজার। দর্শনার্থীদের বড় অংশই ছিলেন মিউনিখ ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দা। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও অস্ট্রিয়া থেকে আসা মানুষের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য।
মাদক ও যৌন হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগ
মিউনিখ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এবারের উৎসবে ৮৫৪টি অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৭৪৮। পুলিশের হিসাবে, দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে কোকেনসংক্রান্ত অপরাধের কারণে এ সংখ্যা বেড়েছে। এবার মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিষয়ে বাড়তি নজরদারি চালানো হয়েছিল।
এ ছাড়া যৌন অপরাধের ৮০টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যা গত বছরের তুলনায় আটটি বেশি। এর মধ্যে ৫২টি ঘটনায় যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচটি ঘটনায় তদন্ত চলছে। গত বছরও ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচটি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল।
উৎসবের শেষ দিনে আজ রোববার ঐতিহ্য অনুযায়ী দুপুর ১২টায় আতশবাজির পরিবর্তে গানপাউডার ব্যবহার করে বিশেষ শব্দসৃষ্টির আয়োজন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির আবহ তৈরি হয়।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ