নেপালে উদ্ধার অভিযান বন্ধ, এখনো নিখোঁজ ৫২৮৫
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ৪০ দিন পর তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৫৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫ হাজার ২৮৫ জন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর সভাপতিত্বে জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের বৈঠকে উদ্ধার অভিযান বন্ধ করে পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এত দিন পরও নিখোঁজদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
গত ২৬ আগস্ট নেপালের ভোতেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যায় বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ হয়ে যায়।
প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেসে যায়। কোথাও কোথাও ভূমিধসে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ হন।
দুর্যোগের পর নদী, পাহাড়ি এলাকা ও ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক অভিযান চালায় নেপালের নিরাপত্তা বাহিনী ও বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থা। কিন্তু ৪০ দিন ধরে তল্লাশি চালিয়েও হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষের সন্ধান না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সক্রিয় উদ্ধার অভিযান গুটিয়ে নেওয়া হলো।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে, ৫ হাজার ২৮৫ জন এখনো নিখোঁজ। নিখোঁজদের মধ্যে ১৮৯ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া ৩৬টি দেশের ৬০৬ জন বিদেশি পর্যটকেরও এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তবে উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয় করে দেওয়া হয়নি। জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় উদ্ধারকাজ চালু থাকবে। পাশাপাশি পুনর্গঠনকাজের সময় কোনো মরদেহের দেহাবশেষ বা নিখোঁজদের মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া গেলে তা উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হবে।
সরকার এখন বন্যা ও ভূমিধসে বিধ্বস্ত এলাকাগুলো পুনর্গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসনে বড় পরিসরে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। ধ্বংস হওয়া সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও অবকাঠামো পুনর্র্নিমাণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নেপাল সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে নিখোঁজদের পরিবারগুলোর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটলেও তাদের অনিশ্চয়তা ও শোক আরও গভীর হয়েছে। ৪০ দিন ধরে প্রিয়জনের ফিরে আসার আশায় থাকা হাজারো পরিবার এখন নিখোঁজ স্বজনের কোনো চিহ্ন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ