বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক, ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়লেন রাহুল

সোনার দেশ ডেস্ক ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:৩৩ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক, ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়লেন রাহুল

নির্বাচন কমিশনের দিকে এগোতে গিয়ে পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়লেন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর অভিমুখে ইন্ডিয়া জোটের (ওঘউওঅ নষড়প) মিছিল আটকে দিলে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাহুল গান্ধী ও তার বোন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ।


বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (ঝওজ) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিরোধী জোট। বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


ব্যারিকেড টপকে রাহুল

এদিন ভারতীয় পার্লামেন্ট ভবন চত্বর থেকে মিছিল শুরু করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তাদের গন্তব্য ছিল নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর।


মিছিলটি পার্লামেন্ট স্ট্রিটে নীতি আয়োগের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। সেখানে আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী ও ব্যারিকেড বসানো ছিল।


পুলিশের বাধার মুখে রাহুল গান্ধী একটি ব্যারিকেডের ওপর উঠে যান। এ সময় তিনি হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে ধরেন। তার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধী দলের কয়েকজন নেতাও ব্যারিকেডের ওপর উঠেছিলেন।


পরে বিরোধী সংসদ সদস্যরা সড়কে বসে বিক্ষোভ করেন। তাদের হাতে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’সহ বিভিন্ন লেখা সংবলিত ব্যানার ছিল।

আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, পরে মুক্তি

মিছিল এগোতে না দেওয়ার পর পুলিশ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে। তাদের পুলিশ বাসে তোলা হয়।

তবে পরে তারা বের হয়ে নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তরের পাশে অবস্থিত আকাশবাণী ভবনে প্রবেশ করেন। শেখ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করছিলেন।


এদিন বিক্ষোভকারীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। পরে রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘জ্ঞানেশ, এবার পদ ছাড়ুন।’

দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় এদিন ব্যাপক নিরাপত্তা নেওয়া হয়। সংসদ ভবন ও নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের আশপাশে পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী ও ব্যারিকেড মোতায়েন করা হয়।


কেন এই বিক্ষোভ

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ঝওজ প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধীদের টানাপোড়েন চলছে।

বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়ম হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে অনুপযুক্ত ও ভুয়া নাম বাদ দেওয়া এবং তালিকা হালনাগাদ করতেই এই প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।


এই ইস্যুতে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে। মঙ্গলবারের মিছিলকে সেই আন্দোলনেরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সুপ্রিম কোর্টে জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে মামলা

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও মামলা চলছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ গত সোমবার নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সরকার, জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে নোটিশ দিয়েছে।


তবে আদালত আপাতত জ্ঞানেশ কুমারকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়নি। আদালত বলেছে, শুধু সংবাদ প্রতিবেদন বা অনুমানের ভিত্তিতে এমন আদেশ দেওয়া যায় না; আগে অভিযোগের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।


তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে, জাগোনিউজ