বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

বিপুল সামরিক ব্যয়, তবুও কেন হুথি হামলা ঠেকাতে পারছে না সৌদি

সোনার দেশ ডেস্ক ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩৩ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩৩ অপরাহ্ন
বিপুল সামরিক ব্যয়, তবুও কেন হুথি হামলা ঠেকাতে পারছে না সৌদি
সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

প্রতিরক্ষা খাতে প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং উন্নত অস্ত্রশস্ত্রও কিনেছে দেশটি।


তবু ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত রাখতে হিমশিম খাচ্ছে সৌদি আরব। গত এক সপ্তাহে রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরেও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে।


স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সৌদি আরব প্রতিরক্ষা খাতে ৮৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। বিশ্বের শীর্ষ ১০ সামরিক ব্যয়কারী দেশের মধ্যে রয়েছে দেশটি।


যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি যুদ্ধবিমান, প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য থেকেও উন্নত অস্ত্র কিনেছে সৌদি আরব। কিন্তু বিশাল ভূখণ্ড জুড়ে ছড়িয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং একাধিক দিক থেকে আসা হুমকি মোকাবিলায় এসব অস্ত্রের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


সৌদি আরবের পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ- তিন দিক থেকেই নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে। চলতি বছরের সংঘাতের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে ইরান সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। উত্তরে ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণে ইয়েমেনের পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেওয়া হুথি বিদ্রোহীরা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে।


সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার অর্থ শুধু রাজধানী রিয়াদ কিংবা একটি তেল শোধনাগার সুরক্ষিত রাখা নয়। দেশটির বিস্তৃত ভূখণ্ডে বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা, পাইপলাইনসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রয়েছে। 

হুথিদের ছোড়া অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে পারলেও কিছু হামলা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে যাচ্ছে। সৌদি আরবের এক সূত্রের ভাষ্য, এত বিপুলসংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত রাখতে বিদ্যমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কোথায় এবং কীভাবে মোতায়েন করা হবে, তা নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।


কৌশল বদলাচ্ছে হুথিরা

সৌদি প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে হুথিরা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার কৌশলের সঙ্গে এর মিল রয়েছে। রাশিয়া সেখানে প্রায়ই বিপুলসংখ্যক ড্রোনের সঙ্গে ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে।


ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তুলনামূলক নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়ায় সেগুলো শনাক্ত ও অনুসরণ করা কঠিন। হুথিরা এমন নতুন প্রজন্মের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করছে, যেগুলো দিক পরিবর্তন করতে পারে বলে তাদের দাবি। ফলে অত্যাধুনিক কোনো একক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়েই সব ধরনের হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা নেই।


হুথিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইরানের সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আট বছর আগে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ইয়েমেনে ইরানি উৎসের ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, সামরিক সরঞ্জাম ও চালকবিহীন আকাশযানের উপস্থিতি শনাক্ত করেছিলেন। আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এসব সরঞ্জাম সেখানে পৌঁছেছিল। দুই বছর আগের এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের ওই বিশেষজ্ঞ প্যানেল বলেছিল, বাইরের উৎস থেকে হুথিদের সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাত্রা ছিল নজিরবিহীন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, হুথিদের ব্যবহৃত হেতেম-২ ও প্যালেস্টাইন-২ ক্ষেপণাস্ত্রের নকশার সঙ্গে ইরানের অস্ত্রের উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। এগুলো দ্রুতগতির ও নির্ভুল। গত বছর ইসরায়েলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এড়িয়ে একটি হুথি ক্ষেপণাস্ত্র বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কাছে আঘাত হেনেছিল। প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূর থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রটির নির্ভুলতা তখন বিশ্লেষকদের নজর কাড়ে।


ইরানের প্রভাব থাকলেও হুথিদের আছে নিজস্ব লক্ষ্য

হুথিরা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ। হিজবুল্লাহ, হামাস ও ইরাকের বিভিন্ন ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী সামরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও হুথিরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। তেহরানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে নিজেদের রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্যও রয়েছে গোষ্ঠীটির।


২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবের সঙ্গে সাত বছরের সংঘাতে ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ব্যাপক দুর্ভোগ তৈরি হয়। এরপরও অর্থনৈতিক ও পরিবহন অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাইয়ে লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলার ঘোষণা দেয় হুথিরা। এর কিছুদিন পরই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। প্রথমদিকে লোহিত সাগর উপকূলের আরামকো তেল শোধনাগার ও সৌদি বিমানঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু ছিল।


ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীকে সহায়তা দিতে সৌদি বিমান হামলা বন্ধ করা এবং সৌদি আরবের কাছ থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে হুথিরা। ইরান রিয়াদ ও হুথিদের মধ্যে আলোচনা শুরুর জন্য মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত তেহরান। এখানে ইয়েমেন বলতে হুথিদের বোঝানো হয়েছে।


তবে হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি দাবি করেছেন, সৌদি আরব মধ্যস্থতার প্রস্তাব গ্রহণ করলেও হুথিরা দুই সপ্তাহ ও এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তার হুঁশিয়ারি, সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, এর পরিধি ও ক্ষয়ক্ষতি তত বাড়বে এবং বর্তমানে যে সমঝোতা সম্ভব, পরে তা কঠিন কিংবা অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।


সামরিক অভিযান নাকি কূটনীতি, কঠিন সিদ্ধান্তে রিয়াদ

হুথিদের হামলা জোরালো হওয়ার পরও সৌদি আরব পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছে। গত সপ্তাহে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিষয়ে মোবাইল ফোনে জনসাধারণকে সতর্ক করার ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এর পরপরই রিয়াদের বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আবার সতর্কবার্তা চালু করা হয়েছে বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন রিয়াদের কয়েকজন বাসিন্দা। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, সোমবার তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।


হুথিদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো সৌদি আরবের জন্য কঠিন। বিমানবন্দরে হামলায় এক ডজনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর সমঝোতা রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর হতে পারে। অন্যদিকে, আরও জোরালো বিমান হামলা চালালে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দেশটিকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।


ঝুঁকিতে শুধু তেলশিল্প নয়। দেশটির প্রযুক্তি খাতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, পানির সরবরাহ ও পর্যটন অর্থনীতির জন্য ডেটা সেন্টার, লবণাক্ত পানি পরিশোধনাগার এবং বিমানবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি মাসের শেষ দিকে রিয়াদে যুবরাজের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগবিষয়ক আয়োজনও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে সৌদি আরবের ভাবমূর্তি তুলে ধরবে। তবে চলতি সপ্তাহে রিয়াদে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পেট্রোলিয়াম কংগ্রেসে বড় বড় করপোরেশনের অংশগ্রহণে অনীহা দেখা গেছে।


ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে নিয়ে স্থল অভিযান চালিয়ে হুথিদের পরাজিত করার সম্ভাবনাও কম। পাহাড়ি এলাকায় শক্ত অবস্থান নেওয়া এবং দীর্ঘদিনের যুদ্ধে অভিজ্ঞ হুথিরা গত এক মাসে সরকারি বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সাত সপ্তাহের বিমান হামলা অভিযানে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল। শেষ পর্যন্ত হুথিরা লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজে হামলা না করার বিষয়ে সম্মত হলেও ইয়েমেনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখে। এ সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক রিপার ড্রোনও ভূপাতিত করে।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাতেও হুথি নেতৃত্বকে পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। তাদের কমান্ডার ও প্রযুক্তিবিদদের কেউ কেউ নিহত হলেও গোষ্ঠীটি সক্রিয় রয়েছে। যুদ্ধবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের সোমবারের তথ্য অনুযায়ী, হুথিরা ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তৃতীয় বৃহত্তম শহর ও গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ কেন্দ্র তাইজ ঘিরে ফেলেছে। গোষ্ঠীটির সশস্ত্র সদস্যসংখ্যা ৩ লাখ ৫০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।


আন্তর্জাতিক সহায়তা খুঁজছে সৌদি আরব

হুথিদের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে সৌদি আরব। আঞ্চলিক মিত্ররা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তান সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছে। মিসরও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের শুরুতে পাওয়া প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে নতুন করে অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারে রিয়াদ।


তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদেরই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান কৌশলগত অস্ত্রের মজুতে ঘাটতি তৈরি করেছে এবং নতুন করে গোলাবারুদ সরবরাহের ক্ষেত্রে শিল্প খাতের সীমাবদ্ধতা সামনে এনেছে।


এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর তিন সপ্তাহ বাকি থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতে জড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন হামলার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট অবস্থান নেননি, তবে সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।


ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মাইকেল র‍্যাটনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনাগ্রহ থেকে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে সবচেয়ে সংকটময় সময়ে দেশটি তার মিত্রকে পরিত্যাগ করেছে। রিয়াদে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত র‍্যাটনির মতে, রাজনৈতিক কারণে সৌদি আরবকে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কূটনীতিতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, যদিও সেই কূটনীতি অসম্পূর্ণ ও অসন্তোষজনক হতে পারে।


সব মিলিয়ে, বিপুল সামরিক ব্যয় ও অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো বিশাল ভূখণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো একসঙ্গে সুরক্ষিত রাখা, পরিবর্তনশীল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা এবং পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের যোগান নিশ্চিত করা। সামরিক অভিযান বাড়ালে পাল্টা হামলার ঝুঁকি, আর সমঝোতায় গেলে রাজনৈতিক মূল্য- দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজতে হচ্ছে রিয়াদকে। শেষ পর্যন্ত হুথিদের অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখেই কূটনীতিতে ফিরতে হতে পারে সৌদি আরবকে।


তথ্যসূত্র: সিএনএন, বাংলানিউজ