বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

সোনার দেশ ডেস্ক ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ০১:০৬ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ০১:০৬ অপরাহ্ন
উত্তর কোরিয়ার সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

কোরীয় উপদ্বীপে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এবার দুটি সাবমেরিন থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির পূর্ব উপকূলের সমুদ্রে এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ। 


বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কেসিএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবারের এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের প্রতিরোধ সক্ষমতার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা ও কৌশলগত মিশন পরিচালনায় নৌবাহিনীর দক্ষতা আরো শাণিত করা। 

নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি ছিল ‘পুলহওয়াসাল-৩-৩১’। ঠিক এই একই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র গত সপ্তাহে স্থলভাগ থেকে পরীক্ষা করার কথা জানিয়েছিল পিয়ংইয়ং। দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই পরীক্ষা পরিচালিত হয়। কেসিএনএ-এর দাবি, এই পরীক্ষাগুলোর কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। 


বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া এখনো পুরোপুরি চালুর মতো কোনো আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন চালু করতে পারেনি। তবে এটি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের শীর্ষ সামরিক অগ্রাধিকারগুলোর একটি। এর আগে গত বছর কিং জন উনকে ৮ হাজার ৭০০ জন ওজনের একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক চালিত ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করতে দেখা যায়। সেসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার পারমাণবিক সাবমেরিন চুক্তির কড়া সমালোচনা করে এটিকে কোরীয় উপদ্বীপের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি বলে অভিহিত করেছিলেন। 


সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে  একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে শক্তি প্রদর্শন করছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার সম্পর্কে যখন চরম অবনতি ঘটছে, ঠিক তখনই চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পূর্ব উপকূলের সাগরের দিকে একাধিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র  নিক্ষেপ করে পিয়ংইয়ং। এর আগে গত ৩ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম একটি হাইপারসনিক মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রেরও পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। 


উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের ‘শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র’ নীতির অংশ হিসেবে জিএমজেড-এর আশপাশে সামরিক স্থাপনা নির্মাণের কাজও দ্রুতগতিতে বাড়িয়ে দিয়েছে পিয়ংইয়ং। ২০০৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চিরতরে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্যই এই নীতি চালু করা হয়েছিল।


এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়াও চুপ করে বসে নেই। গত সপ্তাহে দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং নিজেই দেশের প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ তদারকি করেন। প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার এমন ঘটনা বিরল। সিউলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অস্ত্র পুরোপুরি প্রস্তুত হলে কোরীয় উপদ্বীপের যুদ্ধক্ষেত্রে আকস্মিক ও নিখুঁত হামলা চালানোর সক্ষমতা ব হগুণ বৃদ্ধি পাবে। 


সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি দুই কোরিয়ার মধ্যকার স্থল সীমান্তও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ডিমিলিটারাইজড জোনে (জিএমজেড) এক ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিনজন সেনা আহত হন। সিউল ও জাতিসংঘের যৌথ তদন্তে দাবি করা হয়, ওই ল্যান্ডমাইনগুলো প্রায় এক বছর আগে উত্তর কোরীয় বাহিনী পুঁতে রেখেছিল। এই ঘটনার পর সিউল আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানালে সম্পর্কে আরো টানাপোড়েন শুরু হয়। 


উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের ‘শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র’ নীতির অংশ হিসেবে জিএমজেড-এর আশপাশে সামরিক স্থাপনা নির্মাণের কাজও দ্রুতগতিতে বাড়িয়ে দিয়েছে পিয়ংইয়ং। ২০০৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চিরতরে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্যই এই নীতি চালু করা হয়েছিল। 


২০১৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময় ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই কোরীয় উপদ্বীপে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এক প্রকার স্থবির হয়ে আছে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি দেখা যায়নি।


তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা