রেললাইনের পাশে গার্মেন্টস কর্মকর্তার, জঙ্গলে হাত-পা বাঁধা চালকের লাশ
কুষ্টিয়ায় রেললাইনের পাশ থেকে জয়নাল আবেদীন (২৫) নামের এক গার্মেন্টস কর্মকর্তার এবং নেত্রকোনায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রোকন উদ্দিন (৩০) নামে এক অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সকালে গার্মেন্টস কর্মকর্তার এবং বিকালে অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নেত্রকোনা
সদরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রোকন উদ্দিন নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার সিংহের বাংলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার বুদ্ধিয়ার জঙ্গল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় নিহতের হাত গামছা দিয়ে বাঁধা এবং পায়ে টেপ প্যাঁচানো অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, প্রথমে নিহতের পরিচয় জানা না গেলেও পরে তার স্ত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। রোকনের বাড়ি মদনপুরের পূর্বপাড়া এলাকায়। তিনি সাধারণত ভাড়ায় অটোরিকশা চালাতেন। তার শ্বশুরবাড়ি মৌলভীবাজারে। বুধবার রাতে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি।
নেত্রকোনা সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার স্বজল কুমার বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের হাত গামছা দিয়ে বাঁধা এবং পায়ে টেপ প্যাঁচানো ছিল। তার শরীরে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন তেমন দেখা না গেলেও চোখে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পশ্চিম পাশ থেকে জয়নাল আবেদীন নামে এক গার্মেন্টস কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পোড়াদহ রেলওয়ে পুলিশ। ট্রেন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জয়নাল পঞ্চগড়ের ভোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের নয়া মিয়ার বড় ছেলে এবং পেশায় গার্মেন্টসের সুপারভাইজার ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ষোলদাগ ৬৮ পাড়া হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পশ্চিম পাশে রেললাইনের পাশে স্থানীয় লোকজন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। বিষয়টি পুলিশকে জানালে পোড়াদহ থেকে রেলওয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
ভেড়ামারা রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ওই ব্যক্তি ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশে চিত্রা ট্রেনে যাচ্ছিলেন। ভেড়ামারায় চিত্রা ট্রেনের বিরতি হয়েছিল রাত পৌনে ২টার সময়।’
নিহতের ভাই জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমার ভাই গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসে সুপারভাইজার পদে চাকরি করেন। বুধবার অফিস থেকে সন্ধ্যা ৭টায় বের হন। শুনেছি ঢাকা থেকে খুলনায় শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে ট্রেনে যাচ্ছিলেন। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসার কথা ছিল। সকালে মৃত্যুর খবর পাই আমরা। বাড়িতে আসার বিষয়টি রাতেই বাবাকে জানিয়েছিলেন জয়নাল। তবে ট্রেনে উঠে টিকিট না পাওয়ার বিষয়টি রাত ১০টার দিকে ভাবিকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি।’
ভেড়ামারা থানার ওসি মো. শামীম শেখ বলেন, ‘মরদেহ পড়ে আছে খবর শোনার পরই আমরা সেখানে গিয়ে রেলওয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানাই। ঘটনাটি রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় মরদেহ উদ্ধার করেছে তারা।’
পোড়াদহ রেলওয়ে পুলিশের ওসি মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘আমরা জয়নাল আবেদীনের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করে রেলওয়ে থানায় নিয়ে এসেছি। রাতে চিত্রা ট্রেনে করে শ্বশুরবাড়িতে আসছিলেন তিনি। ভেড়ামারাতে ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছি। তার স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে।’
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন