বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬

ইতালিতে সংঘর্ষ-লুটপাট, সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি

সোনার দেশ ডেস্ক ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২০ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২০ অপরাহ্ন
ইতালিতে সংঘর্ষ-লুটপাট, সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি
ইতালিতে সংঘর্ষ-লুটপাট/ ছবি: এএফপি

ইতালির মিলান শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনার পর ৫০০ সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির সরকার। পরিস্থিতির কারণে শহরটির কয়েকটি বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের দোকানও বন্ধ রাখা হয়েছে।


মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হতে পারে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালনকারী সেনাসদস্যদের পুলিশি ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।


গত শনিবার ও রোববার মিলানে দুই দিন ধরে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় শত শত বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয় এবং কয়েক ডজন পুলিশ সদস্য আহত হন।


ফ্যাশনশিল্পের জন্য পরিচিত শহরটির বেশ কয়েকটি দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছে। এ সপ্তাহে কিছু দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। আবার কোনো কোনো দোকান থেকে প্রদর্শনীর জন্য রাখা পণ্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আগামী শনিবারও নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে।


এদিকে, বিক্ষোভ দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে সরকার। এর মধ্যে জনসমাবেশে বিধিনিষেধ, অপ্রাপ্তবয়স্কদের আটকসংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করা এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখার বিষয়ও রয়েছে।


ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি সংঘর্ষের ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। আরটিএল ১০২.৫ রেডিওকে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেনা মোতায়েনসহ বেশ কিছু ‘তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ’ ঘোষণা করা হবে।


প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোজেত্তো সোমবার আশা প্রকাশ করেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমন বিধান অনুমোদন করা হবে, যাতে সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো দায়িত্ব পালন করতে পারে।


প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শনিবার সহিংসতায় জড়িতদের ‘গুণ্ডা’ বলে আখ্যা দেন। তার অভিযোগ, এসব ব্যক্তি বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছে, নিরাপত্তা নিশ্চিতকারীদের ওপর হামলা করছে এবং পুরো শহরকে জিম্মি করে রাখছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘বিক্ষোভ করা অধিকার। কিন্তু আমাদের শহরগুলো ধ্বংস করা নয়।


ইতালিজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কৃষক এবং ট্রাকচালকেরা। আগামী বছর নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া কট্টর ডানপন্থী নেতা মেলোনির সরকারের জন্য অর্থনীতির অবস্থা, নিরাপত্তা ও অভিবাসন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।


তথ্যসূত্র: এএফপি, জাগোনিউজ