রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া হুথি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি সৌদি জোটের
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি করেছে সৌদি জোট বাহিনী।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট বাহিনী বলেছে, তাদের বাহিনী রিয়াদকে লক্ষ্য করে হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বাধা দিয়ে মাঝআকাশে ধ্বংস করেছে।
এক্স-এ এক পোস্টে সৌদি জোট বাহিনীল মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, ক্ষেপণাস্ত্রটি ভোর ৪টার ঠিক পরপরই ভূপাতিত করা হয়।
এর আগে রাত ১টার দিকে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দিকে হুথিদের ছোড়া দুটি ড্রোন বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিহত ও ধ্বংস করে বলে জানান আল-মালিকি।
সৌদি জোট বাহিনী আরো জানিয়েছে, শুক্রবার খামিস মুশাইত লক্ষ্য করেও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল, যা মাঝপথেই প্রতিহত করা হয়।
ইরান-সমর্থিত হুথিদের সীমান্ত পেরিয়ে এই নতুন হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। জোটের তথ্য অনুযায়ী, কেবল অক্টোবর মাসেই হুথিরা সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে অন্তত ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬০টিরও বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
জোটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদ ও খামিস মুশাইতের পাশাপাশি নাজরান, পূর্ব প্রদেশ এবং গত ১৫ অক্টোবর মদিন অঞ্চলেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
হুথিরা তাদের হামলায় নিয়মিতভাবে বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামোকে টার্গেট করছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসে এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ২৪ জন নিহত এবং অন্তত ৩৭৪ জন আহত হয়েছেন।
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। গত ৭ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে বিমানবন্দরটিতে চালানো বিভিন্ন হামলায় ১৮ জন নিহত ও ৩৩৩ জনের বেশি আহত হন। এর মধ্যে কেবল ১০ অক্টোবরের হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হন। এছাড়া আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং শায়বাহ তেল স্থাপনাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে হুথিদের এই ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান, মিশর এবং মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ। বাহরাইন অবিলম্বে এই হামলা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েক কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছে এবং সতর্ক করে বলেছে, এই উত্তেজনা আঞ্চালিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি ও নিজেদের সীমান্তে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ইয়েমেনের সরকারের সমর্থনে দেশটির গৃহযুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব। পরবর্তীতে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও চলতি বছর সেই ভঙ্গুর শান্তি ভেঙে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়।
তথ্যসূত্র: আরব নিউজ, রাইজিংবিডি