শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬

মণিপুরে থালা-বাসন বাজিয়ে শব্দদ্রোহ!

মণিপুরে থালা-বাসন বাজিয়ে শব্দদ্রোহ! ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৩৭ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
মণিপুরে থালা-বাসন বাজিয়ে শব্দদ্রোহ! ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৩৭ অপরাহ্ন
মণিপুরে থালা-বাসন বাজিয়ে শব্দদ্রোহ!
বহু মানুষ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ পথে নেমেছিলেন। ছবি: সংগৃহীত।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মণিপুরের পাঁচটি জেলায় দেখা গেল অভিনব দৃশ্য। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে বিগত তিন বছর ধরে রাজ্য জুড়ে যে খুনোখুনি চলছে, তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে পথে নামলেন হাজার হাজার মানুষ। সঙ্গে বাটি-ঘটি, কাঁসর-ঘণ্টা। তাঁদের লক্ষ্য, একজোট হয়ে শব্দের মাধ্যমে বিক্ষোভ। সবচেয়ে বেশি জমায়েত দেখা গেল রাজধানী ইম্ফলে। লোকভবন থেকে অল্প দূরে কাঙলা দুর্গের সামনে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে হয়। গড়ে তোলা হয় ব্যারিকেড।


মণিপুরের উপত্যকা অঞ্চলের পাঁচটি জেলায় জমায়েতের ডাক দিয়েছিল ফেডারেশন অফ হাওমি। এই জেলাগুলি হল পশ্চিম ইম্ফল, পূর্ব ইম্ফল, থৌবল, বিষ্ণপুর ও কাকচিং। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বহু মানুষ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ পথে নেমেছিলেন। তাঁদের কারও হাতে থালা, কেউ ঢোল বাজাচ্ছেন, কেউ গাড়ির হর্ন চেপে ধরে আছেন, কেউ বা হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটি। এই অভিনব বিক্ষোভ চলে প্রায় আধ ঘণ্টা। মণিপুরে ২০২৩ সালের ৩ মে যে বড় আকারের জাতিগত সংঘাত শুরু হয়েছিল, তার প্রধান দুই পক্ষ ছিল মেইতেই ও কুকি-জো সম্প্রদায়। নাগা ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে পৃথক সংঘাতও ২০২৬ সালে বেড়েছে। তাঁদের দাবি, এই সব সংঘাতের মীমাংসা হোক। সরকার উদ্যোগী হয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করুক। পাহাড় ফিরুক স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়।


ইম্ফল মণিপুরের প্রাণকেন্দ্র। রাজনীতি ও সংস্কৃতি দুই ক্ষেত্রেই। তাই জমায়েতও সবচেয়ে বেশি হল সেখানে। প্রথমে দুর্গের চত্বরে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে পশ্চিম দ্বারের দিকে রওনা দেন বিক্ষোভকারীরা। শতাব্দীপ্রাচীন কাঙলা দুর্গের পশ্চিম দ্বারের ৩০০ মিটারের মধ্যেই লোকভবন। ফলে পুলিশ মোতায়েন থাকে সবসময়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে আন্দাজ করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। লোকভবনে যাওয়ার পথে ব্যারিকেড করা হয়।


ফেডারেশন অফ হাওমির ভাষায়, এই প্রতিবাদ মণিপুরের সাধারণ মানুষের জন্য ‘জাগরণের অন্তিম ডাক’। এ দিন বিক্ষোভকারীরা আরও কিছু বিষয়ে সরব হয়েছেন। ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজ়েন্‌সের (এনআরসি) বাস্তবায়ন, অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্তকরণ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সাসপেনশন অফ অপারেশনস চুক্তি বাতিল করা। মণিপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কোন্থৌজম ২৩ অক্টোবর জানিয়েছেন, কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে ওই চুক্তির মেয়াদ ৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে এবং তা আর বাড়ানো হয়নি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ নিয়ে রাজ্য সরকারের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন