রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬

মায়ের চিকিৎসা করাতে এসে প্রাণ গেল সামিয়ার

সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১১ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১১ অপরাহ্ন
মায়ের চিকিৎসা করাতে এসে প্রাণ গেল সামিয়ার

মা জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত। তার চিকিৎসার জন্য রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) ছিল ১৩ বছর বয়সি সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া-নূর।

মায়ের পাশে থাকতে হাসপাতালে যাওয়া মেয়েটির জীবনই থেমে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালের আটতলার ওয়ার্ডে গ্রিলবিহীন জানালা দিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় সে।

পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।


শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, সামিয়ার মা পারুল আক্তার পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে জরায়ু ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সি ব্লকের আটতলার একটি ওয়ার্ডে ভর্তি হন।


আগামী ২৮ অক্টোবর তার অস্ত্রোপচারের কথা ছিল। শনিবার দুপুর আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার কয়েক মিনিট আগে সামিয়া মাকে বলেছিল, ‘মা, ক্ষুধা লেগেছে, ভাত দাও।’ ভাত খাওয়ার পর বিছানার পাশে জানালার মতো জায়গাটিতে বসে চাদর ঝাড় দিতে গিয়ে গ্রিলবিহীন জানালা দিয়ে নিচে পড়ে যায় সে। মুহূর্তেই ওয়ার্ডজুড়ে শুরু হয় চিৎকার ও আহাজারি। অসুস্থ মায়ের পাশে থাকা মেয়েটিকে বাঁচাতে আকুতি জানান অন্য রোগী ও স্বজনেরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।


মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা নুরুন্নবী। অন্যদিকে, ক্যানসারে আক্রান্ত মা হারালেন তার আদরের সন্তানকে।

সামিয়া গাজীপুরের একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মায়ের চিকিৎসা চলছিল হাসপাতালে, আর সেই হাসপাতালেই এক দুর্ঘটনায় নিভে গেল সামিয়ার জীবন। ক্যানসার আক্রান্ত মা হারালেন তার আদরের সন্তানকে।


তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ