২১২ বছরে প্রথম, জাদুঘরে প্রদর্শিত দেবী দুর্গার চন্দ্রহার, সীতাহার-সহ দুর্মূল্য সোনার গয়না
২১২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম। ভারতীয় জাদুঘরের হেফাজতে থাকা দেবী দুর্গার দুর্মূল্য সব অলঙ্কার প্রকাশ্যে আনা হল। সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শিত হল। কী নেই তাতে? চন্দ্রহার, সীতাহার, বাজুবন্ধ, ঝুমকো, হাতের বালা। চোখ ধাঁধানো সব অলঙ্কার। অবিভক্ত বাংলার দেবী দুর্গার অমূল্য পুরাতাত্ত্বিক স্বর্ণালংকার সংগ্রহ। মহালয়া থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ প্রদর্শনীতে কুমোরটুলি থেকে আনা হয়েছিল দেবীমূর্তি। শিল্পী নব পাল। পুরাতাত্ত্বিক সেই অলঙ্কারের ধাঁচেই দেবীকে সাজানো হয়েছিল কয়েক কোটির অলঙ্কারে।
প্রদর্শনীতে ছিল দেবী দুর্গার সঙ্গে সম্পৃক্ত হরেক সনাতনী সামগ্রী। গুপ্তযুগের স্বর্ণমুদ্রা থেকে তালপাতায় খোদাই করা ‘শ্রীশ্রীদুর্গা স্তোত্র’, সবই ছিল প্রদর্শনীতে। রোববার এই প্রদর্শনী শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, প্রদর্শিত প্রতিমাটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের অধিকর্তা প্রত্নতাত্ত্বিক ড. সায়ন ভট্টাচার্য জানান, “নব
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ ও নকশিকাঁথা নিয়ে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীর অন্দরমহল সেজে উঠেছিল সাবেকি নকশিকাঁথার নিখুঁত নকশায়, যেখানে স্পন্দিত হয়েছে আদি মাতৃশক্তির বন্দনা। জানা গিয়েছে, যে জুয়েলারি সংস্থা মাকে সালঙ্কারা করেছে, তাদের দক্ষিণেশ্বর, কালীঘাট, অযোধ্যার রামমন্দির ও তিরুপতির মতো মন্দিরের দেববিগ্রহকে সাজানোর গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এবার দেবী দুর্গার ‘ষোলো শৃঙ্গার’ সম্পন্ন করেছে সম্পূর্ণ সোনার অলঙ্কারে।
দেবীর অঙ্গে শোভা পেয়েছে নবরাত্রির নয়টি রূপকে ফুটিয়ে তোলা বিশেষ দুর্গা নেকলেস, সমৃদ্ধির প্রতীক মহালক্ষ্মী গহনা এবং জ্ঞান ও বিবেকের প্রতীক মা সরস্বতীর হংসখচিত অলংকার। সোনার অলঙ্কারের সঙ্গে মিলেমিশে একার হয়েছে কাঁথা স্টিচের বুনন। পুরাতাত্ত্বিক অলঙ্কারের ইতিহাসে মিশেছে বর্তমান গয়নার জৌলুস। জাদুঘরের এক আধিকারিক জানালেন, প্রদর্শিত দু’সেট সোনার গয়নার কোনও ইতিহাস মিউজিয়ামের হাতে নেই। শুধু জানা গিয়েছে, অবিভক্ত বাংলার একাধিক মন্দির থেকে এই অলঙ্কারগুলি সতেরো-আঠারোশো সালে সংগৃহীত হয়েছে।
গয়নার পাশাপাশি প্রদর্শনীকে সমৃদ্ধ করেছিল উত্তর ২৪ পরগনার ঐতিহ্যবাহী একবিংশ শতাব্দীর ‘দুর্গা সরা চিত্র’ এবং তালপাতায় সূক্ষ্মভাবে খোদাই করা ঊনবিংশ শতাব্দীর ‘শ্রীশ্রীদুর্গা স্তোত্র’ পুঁথি। মহাষ্টমীর পূজায় এই স্তোত্রপাঠ করা হয়। প্রদর্শনীতে দেবী দুর্গা নিয়ে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন অনলাইন