রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬

সীমান্তে কঠোর বিধিনিষেধ, স্থল বাণিজ্যেও বিপর্যয়ের মুখে ইরান

সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২৩ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২৩ অপরাহ্ন
সীমান্তে কঠোর বিধিনিষেধ, স্থল বাণিজ্যেও বিপর্যয়ের মুখে ইরান
ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি সীমান্ত ক্রসিং। ছবি: প্রফিট।

মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং বিমান সংস্থাগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অধিকাংশ নৌ ও আকাশপথ আগেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এবার তিন প্রধান প্রতিবেশী পাকিস্তান, ইরাক ও তুরস্ক সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ এবং ট্রানজিট বিধিনিষেধ আরোপ করায় ইরানের স্থল বাণিজ্যও চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।


মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে গত শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান, ইরাক ও তুরস্ক সীমান্ত ক্রসিংগুলো বন্ধ ও ট্রানজিট বিধিনিষেধ আরোপ করায় ইরানের স্থল বাণিজ্য পথগুলো চরম অস্থিতিশীলতা ও বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যকে আরও সংকুচিত করার হুমকি তৈরি করেছে।


জল, স্থল ও আকাশপথে এই ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক চাপও বাড়িয়েছেন, যার লক্ষ্য তেহরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ছাড় দিতে বাধ্য করা।


প্রতিবেশী তিন দেশ সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করায় যে সমস্যা তৈরি হয়েছে সেটি নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালও। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ ও আকাশপথ অবরোধের খবরের মধ্যে এই বিধিনিষেধগুলো তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও নানামুখী জটিলতার কারণে প্রতিবেশী অন্য চার দেশ তুর্কমেনিস্তান, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া ও আফগানিস্তানের সঙ্গে খোলা থাকা ইরানের অবশিষ্ট স্থল সীমান্ত সামুদ্রিক বাণিজ্য বন্ধের ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে দিতে পারবে না। এছাড়া যুদ্ধের কারণে আর্থিক সক্ষমতায় চাপ তৈরি হওয়ায় দেশটির স্থলপথে বাণিজ্য ভিন্নমুখী বা পুনর্বিন্যাস করার ক্ষমতাও সীমিত হয়ে গেছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় সামুদ্রিক বাণিজ্য পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরানের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ লেনদেন ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যেই পাকিস্তান তাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘গাবদ-রিমদান’ এবং ‘তাফতান’ সীমান্ত ক্রসিংয়ে কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।


পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ এ দুটি সীমান্ত দিয়ে বর্তমানে কেবল ইরানি গ্যাসের ট্যাংকার এবং পচনশীল ফল ও সবজির চালান যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ইসলামাবাদ এই বিধিনিষেধগুলো আরোপ করেছে।


অন্যদিকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সরাসরি নির্দেশে ‘চাজাবেহ’ ও ‘আল-শাইবের’ সংযোগকারী একটি প্রধান সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইরাকি কর্তৃপক্ষ বলছে, মাদকের চালান এবং জাল মুদ্রা পাচারকারী নেটওয়ার্ক ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের সঙ্গে সচল থাকা সীমান্ত ক্রসিংগুলোর সংখ্যা আরও কমানোর জন্য মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরাক সরকারের ওপর জোর চাপ সৃষ্টি করেছে।


ইরান ও তুরস্ক সীমান্তের বাজারগান ক্রসিংয়েও তেহরানকে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বাজারগান ক্রসিংকে বলা হয় ইরানকে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করার প্রধান স্থল করিডোর।


তুরস্ক সম্প্রতি বাজারগান ক্রসিংয়ে ইরানি ট্রাক প্রবেশের ওপর বড় ধরণের কড়াকড়ি আরোপ করেছে। এই অবকাঠামোর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার যানবাহন চলাচলের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রতিদিন মাত্র ২০০ থেকে ৩০০টি ট্রাক ঢোকার অনুমতি দিচ্ছে।


তিন সীমান্তে এমন বিধিনিষেধ পণ্য পরিবহনে বিকল্প পথ খোঁজা ইরানি ব্যবসায়ীদের জন্য চ্যালেঞ্জকে বহুলাংশে বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও স্বীকার করেছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল।


সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে চিহ্নিত আলী রেজাই স্বীকার করেছেন, এ ধরনের অবরুদ্ধ অবস্থা দেশের অর্থনীতি, বিশেষ করে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ক্ষতি ডেকে আনবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই অর্থনৈতিক চাপ তেহরানকে ওয়াশিংটনের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করতে পারবে না।


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ