রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬

নোয়াখালীতে পৃথক ঘটনায় চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ গুলিবিদ্ধ ২

সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৫৯ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৫৯ অপরাহ্ন
নোয়াখালীতে পৃথক ঘটনায় চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ গুলিবিদ্ধ ২
সোনাইমুড়ী থানা

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে এ দুটি ঘটনা ঘটে। আহতদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সোনাইমুড়ী উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষকামতা গ্রামের বটতলী এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসে কথা বলছিলেন জামাল উদ্দিন (৬০)। এ সময় কালো পোশাক ও হেলমেট পরা কয়েকজন যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তার বাম পা ও ঊরুতে গুলি লাগে।


আহত জামাল উদ্দিন একই গ্রামের মিজি বাড়ির মৃত সাখায়েত উল্যার ছেলে। তিনি একসময় প্রবাসে ছিলেন। বর্তমানে তিনি নাটেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে এলাকায় পোস্টারিং করছেন। তার একাধিক ছেলে প্রবাসে রয়েছেন।


সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ওই বৃদ্ধ একটি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় দুজন ব্যক্তি হঠাৎ এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। তবে কী কারণে তাকে গুলি করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


অন্যদিকে, বেগমগঞ্জ উপজেলায় মামলায় জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে এলাকাবাসীর ওপর হামলার চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেদের অস্ত্রের গুলিতে কামরুল হাসান (২৪) নামে এক তরুণ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। শনিবার রাতে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বড় নেওয়াজপুর গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত কামরুল ওই বাড়ির মো. ইউছুফের ছেলে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, কামরুল হাসানের নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। এসব ঘটনায় কামরুলসহ তার দলের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। সম্প্রতি জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে কামরুল এলাকার লোকজনকে হুমকি দিতে থাকেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।


স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে কামরুলের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি মামলার বাদী নুর আলমকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া করলে তারা মোটরসাইকেল ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা অস্ত্রের গুলিতে কামরুল আহত হন বলে দাবি স্থানীয়দের।


খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর প্রথমে এটিকে নিজেদের ওপর হামলা হিসেবে প্রচার করা হয়। তবে পুলিশের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে বলে তারা দাবি করেন।


এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই দলের সদস্যদের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের ভয়ে এলাকাবাসী আতঙ্কে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুল কবির বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।


২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, শনিবার রাতে সোনাইমুড়ী ও বেগমগঞ্জ থেকে গুলিবিদ্ধ দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা চলছে এবং তারা আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।


তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি