ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন: সেই মাদরাসা শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের মামলায় ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেম আহমদের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওমর হায়দারের আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
পরে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
এর আগে, গত ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর ওই মাদরাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার।
ঘটনার পর শিশুটি মাদরাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা এর কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি।
পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা জানায়।
এরপর ২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনরা মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে। পরে এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ মাদরাসা ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে পাল্টা মামলা করেছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। এ ছাড়া মাদরাসা ভাঙচুর ও শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ পৃথক একটি মামলা করেছে।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ