এমপিওভুক্ত জোটের আন্দোলনের নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি
তিন দফা দাবিতে আগামী ৪ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলনের ডাক দেওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জোটের আন্দোলনের নেতা দেলাওয়ার হোসেন আজিজীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলাধীন কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের মাধ্যমে অধ্যক্ষ পদে চাকুরী করা এবং নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাৎ ইত্যাদি অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মো. শামিউল ইসলাম প্রামানিক সই করা চিঠিতে বলা হয়, ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলাধীন কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার আজীবন দাতা সদস্য মুহা: আতাউর রহমান মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে একটি অভিযোগ পত্র পাঠিয়েছেন। কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর যোগদান করে অধ্যক্ষ পদে অবৈধভাবে কর্মরত আছেন।
এছাড়াও যোগদানকালীন তিনি ফাযিল ও কামিলের জাল সনদ ব্যবহার করে আরো চারটি বেসরকারি মাদ্রাসায় চাকুরি করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্যসহ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন মর্মে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্তের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের তিন কর্মকর্তাকে তদন্ত করে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন মহাপরিচালকের দাখিল করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মোঃ চাঁদ মিয়াকে আহ্বায়ক করে সহকারী পরিচালক (খুলনা) মোঃ বুলবুল আহম্মেদকে সদস্য এবং সহকারী পরিচালক (ডাক গ্রহণ ও বিতরণ উপশাখা) বেনজীর আহমেদকে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কর্মকর্তাগণ দায়িত্ব পালনের জন্য বিধি অনুযায়ী টিএ/ডিএ প্রাপ্য হবেন।
এদিকে দেলাওয়ার হোসেন আজিজী ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিডি (এডমিন) মোঃ সামিউল ইসলাম প্রামাণিকের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সন্ধ্যা ৭টার পর পোস্ট দিয়েছিলাম। অথচ রাত ১১টা ২২ মিনিটে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে চিঠি আপলোড করা হয়েছে। আমি অনেক, অনেক ভয় পেয়েছি!’
তিনি জানান, ‘শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মানের প্রশ্নে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা বন্ধ করব না।
তদন্তের নামে চাপ সৃষ্টি করে কিংবা ফ্যাসিবাদী কায়দায় ষড়যন্ত্র করে আমার প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না, ইনশাআল্লাহ। ভয় নয়, ন্যায়ের পক্ষে আমার প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। ৪ নভেম্বর কর্মসূচি ষড়যন্ত্র করে বন্ধ করা যাবে না। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যেকোনো মূল্যে কর্মসূচি সফল করবে ইনশাআল্লাহ।’
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারি ফোরামের সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন আজিজী শিক্ষকদের দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। গতবছর শিক্ষকদের বিভিন্ন ভাতা নিয়ে আন্দোলনের পর সরকার তা মেনে নিয়ে ভাতা বৃদ্ধি করে।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ