শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬

এইচএসসিতে পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই এগিয়ে রাজশাহীর মেয়েরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০১:০৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০১:০৯ অপরাহ্ন
এইচএসসিতে পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই এগিয়ে রাজশাহীর মেয়েরা

এইচএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন মেয়েরা। পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই ছেলেদের পেছনে ফেলেছেন তাঁরা। এ বছর বোর্ডে মেয়েদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ০৩ শতাংশ, ছেলেদের ৩৭ দশমিক ৭১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মেয়ের সংখ্যা বেশি। তবে সামগ্রিক ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। এ বছর বোর্ডে পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে, যা করোনা মহামারিতে ২০২০ সালের অটোপাসের পর সর্বনিম্ন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন। বোর্ডের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন। পাস করেছে ৬১ হাজার ৮৯৪ জন। সে হিসাবে অকৃতকার্য হয়েছে ৭৫ হাজার ৪৬২ জন পরীক্ষার্থী।


এ বছর বোর্ডে মোট ৪ হাজার ৫২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৫৫৫ জন মেয়ে এবং ১ হাজার ৯৬৫ জন ছেলে। অর্থাৎ, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা ছেলেদের চেয়ে ৫৯০ জন বেশি। পাসের হারের ব্যবধানও উল্লেখযোগ্য। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পাসের হার ১৫ দশমিক ৩২ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।


রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ৭৪৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলাফলে দেখা গেছে, মাত্র ৯টি কলেজের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে ৩৯টি কলেজের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।


পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন জানান, পরীক্ষা চলাকালে ৩১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বোর্ডের গত কয়েক বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০ সালে শতভাগ পাসের পর ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে ৮১ দশমিক ৬০ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ছিল ৮১ দশমিক ২৪ শতাংশ। ২০২৫ সালে পাসের হার কমে ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশে নেমে আসে। এবার তা আরও কমে হয়েছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। ফলাফল সম্পর্কে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা খাতায় যেমন লিখেছে, সেভাবেই নম্বর পেয়েছে। কাউকে বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়নি। তাই সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।’