রেলসেবার মানোন্নয়নে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জিএমের সঙ্গে বাপা ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের মতবিনিময়
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল জোন, রাজশাহীর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আহম্মদ হোসেন মাসুমের সঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের রাজশাহী জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টায় রাজশাহীতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বাংলাবান্ধা ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, ভাঙাচোরা আসন মেরামত, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বগি বৃদ্ধি, ট্রেন ও বিশ্রামাগারের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং যাত্রীদের নির্বিঘ্নে টিকিট প্রাপ্তির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসে পঞ্চগড় ও দিনাজপুর এবং সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসে কুষ্টিয়া ও খুলনাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে রোগী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত যাতায়াত করেন। অনেকেই কর্মস্থলে যাওয়া-আসার জন্য এসব ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল। তাই ট্রেনের ভাঙাচোরা আসন মেরামত, যাত্রীদের সুবিধার্থে এসি বগি বৃদ্ধি এবং বগি ও বিশ্রামাগার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ ছাড়া রাজশাহী থেকে ঢাকা, পঞ্চগড় ও খুলনা রুটে ডাবল রেললাইন নির্মাণ, বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের রেলসেবাকে যাত্রীবান্ধব ও গতিশীল করা, ট্রেনে খাবারের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা, প্ল্যাটফর্মে বহিরাগতদের অবস্থান নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশদূষণ রোধ এবং ট্রেনে ও স্টেশন এলাকায় ধূমপান বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সভায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, “রেল রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এটি ভাঙচুর ও নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। রেল আমাদের জাতীয় সম্পদ, আর তা রক্ষা করার দায়িত্ব সবার।”
তিনি রেলভবনে রাষ্ট্রীয় সম্পদে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। ঘটনার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও দোষীদের চিহ্নিত না করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধন করে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, রেলভবন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে। এর ফলে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে টিম কাজ করছে।
টিকিটপ্রাপ্তির বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় যাত্রীরা টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন না। আবার টিকিট না থাকায় রেল কর্তৃপক্ষও সব সময় টিকিট দিতে পারে না। এ পরিস্থিতিতে টিকিট ছাড়া কেউ ট্রেনে উঠে পড়লে বিষয়টি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে হয়।
উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, এ ট্রেনের যাত্রীরা মূলত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেনটি আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই ট্রেনটি পুনরায় চালু করা জরুরি। এ সময় তিনি ট্রেনটি দ্রুত চালুসহ উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে সার্বিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বাপা রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান, সহসভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক জুয়েল কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক সেলিনা বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান, জেলা শাখার সদস্য সম্রাট রায়হান, গোলাম নবী রনি, শাহনাজ পারভীন, হেলেন খান, রাসেদা বেগম, পবা উপজেলা শাখার সম্পাদক ইউসুফ আলী চৌধুরীসহ পরিবেশকর্মীরা।