হঠাৎ পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন
শিগগিরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের মত কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এই আন্দোল শুরুতেই সহিংস হয়ে উঠেছে। রোববার প্রথম দিনেই দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ৫২৯টি কারখানা থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে গেছেন। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে। রাজধানীর ডিএমপি এলাকার মিরপুরেও শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার এই আন্দোলন নারায়ণগঞ্জেও প্রসারিত হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে তিনটে পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার শ্রমিক কাজে যোগ দেননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ-বিজিবির সংঘর্ষ হয়েছে। উভয় পক্ষেই আহত হয়েছে, বিক্ষোভরত শ্রমিকরা গ্রেফতার হয়েছে। সোমবারে সাভার ও আশুলিয়ার ২৬৪টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এসব কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে।
শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলার মুহূর্তে রোববার তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। বিচারপতি আশফাকুর রহমানকে চেয়ারম্যান করে ৬ সদস্যের এ মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। শ্রমমন্ত্রী ভাষায়, এর আগে শ্রমিকনেতা ও মালিকপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। মজুরি বোর্ড শিগগিরই তাদের সুপারিশ পেশ করবে বলে জানিয়েছে।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে। অথচ সময় জ্ঞানে এই পরিস্থিতি বাড়তে দেয়া সমীচীন হবে না। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুশিয়ারি দিয়েছেন। সরকারদলীয় নেতা এবং মন্ত্রীরা শ্রমিক আন্দোলনে ষড়যন্ত্র দেখছেন। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে। ব্লেমগেম খেলতে গিয়ে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যাবে- এমনটি মোটেও প্রত্যাশিত নয়। সর্বাগ্রে দরকার রাজনৈতিকভাবেই আন্দোলনের লাগাম টেনে ধরা। দ্রুততার সাথে ত্রি-পক্ষীয় বৈঠক ডেকেও আলোচনা হতে পারে। সঠিক সিদ্ধান্ত এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান থেকে পরিস্থিতি বিবেচনা করাই উচিৎ হবে।
হুশিয়ারি দিয়ে কিংবা দমন-পীড়ন চালিয়ে উত্তেজনা প্রশমিত করা সম্ভব হবে না। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। কিন্তু অতিকথন ঘটনাপ্রবাহকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতিকে যে তথ্য দিয়েই প্রচার করা হোক না কেন, দেশের মানুষ দেখতে চায়- সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং এটাই তাদের জন্য বড় সাফল্য হবে। অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে থাকলে দেশের মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে, মনোবল হারাতে পারে- উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ভর করতে পারে।