রবিবার, নভেম্বর ০১, ২০২৬

এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

সোনার দেশ ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫০ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫০ অপরাহ্ন
এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২। যা গতবছর ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সেই হিসাবে পাসের গতবছরের তুলনায় কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। পরীক্ষায় এবছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছর যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থী। সেই হিসাবে এবছর জিপিএ-৫ কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। গত বছরের চেয়ে এবার কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। গত বার কেউ পাশ করেনি, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি।


এবারে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত ২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর আগে ২০০৪ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এরপর আর কখনও এবারের মতো বাজে ফল আর হয়নি। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষার্থীরা সব চেয়ে বেশি ফেল করেছেন ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে। 


চলতি বছর এইচএসসি-আলিম-এইচএসসি (বিএম-বিএমটি) বা এইচএসসি (ভোকেশনাল) বা ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স পরীক্ষায় ১১টি বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ ৬ লাখ ২৩ হাজার ৮৯৮ জন শিক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ


হয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণসহ উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করা যাবে অনলাইনে ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত।


এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীকে এক মাসের মধ্যে শুধু ফেল করা বিষয়ে আবার পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। ফলে এসব শিক্ষার্থীকে পরবর্তী বছরের পরীক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না।


উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সামনের লড়াইটিও চ্যালেঞ্জিং। উচ্চ শিক্ষার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু হবে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধের সম্মুখিন হতে হবে। অনেকেই পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে। অন্যরাও কোনো না কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের উচ্চ শিক্ষার যাত্রা অব্যাহত রাখবে। উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তারা আরো বৃহত্তর পরিসরে শিক্ষায়-সফল হয়ে দেশ ও জাতির সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবেন। আর যারা অনুত্তীর্ণ হয়েছে তারা যেন মনোবল না হারায় সেই প্রত্যাশাই করবো।  জীবনের জন্য যা কিছু ভাল তা অর্জনের জন্য সময় শেষ হয়ে যায় না। প্রয়োজন হবে দৃঢ় মনোবল এবং সময়কে কাজে লাগানোর। আজ সফলতা আসেনি কিন্তু আগামীতে চেষ্টা ও অধ্যবসায় সহায় হলে সাফল্য আসবেই। অভিভাবকগণ অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সাহস ও উৎসাহ যোগাবেন সেটাই প্রত্যাশিত।