রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬

আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

সোনার দেশ ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫১ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫১ অপরাহ্ন
আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

এখনই লাগাম টেনে ধরার সময়

দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আইনের ব্যত্যয় ঘটানো সাধারণ ঘটনার মতই মনে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির সহসা কোনো উন্নত হবে তেমন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। ফলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে সাধারণ মানুষের দিন অতিবাহিত হচ্ছে।


পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি মোস্তফা কামালের বাড়ি ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এখানেই তারা ক্ষান্ত হননি- ভিটের মাটি পর্যন্ত কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ক্ষুব্ধ জনতা বলছে তারা সেখানে একটি পুকুর তৈরি করবেন। স্বাভাবিকভাবেই বাড়িঘর ভাঙচুরের পর মাটি পর্যন্ত তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অভিযুক্তের স্বজনরা। ১৮ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর ওই বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়। ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ কাজ অব্যাহত ছিল। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। 


আইন হতে তুলে নেয়ার এ এক অস্বস্তিকর দৃষ্টান্ত। অভিযুক্ত ব্যক্তির আইন অনুযায়ী শাস্তি হবে সেটাই প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙ্চুর-লুটপাট তো হয়েছেই এখন ভিটের মাটি পর্যন্ত কেটে নেয়া হচ্ছে। অথচ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এই ঘটনা বিস্মিত না হয়ে পারা যায় না। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ধরন এমনই হলে অন্যরাও আইন হাতে তুলে নিতে উৎসাহিত হবে। আর স্বার্থান্বেষীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিবে। তাতে করে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতির যে আরো অবনতি হবে- তেমন আশংকা করাই যায়। 


শুধু পাবনা নয়- সারা দেশের কোথাও না কোথাও আইন হাতে তুলে নেয়া মত ঘটনার আধিক্য বাড়ছেই। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে- পুলিশের নির্লিপ্ততা ও দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহ পেশাদারিত্বের ঘাটতি রয়েছে। একইসঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি দাবি করছে। তাদের মতে, খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, আন্দোলন, লুটপাট, অরাজকতা চলছেই। 


মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলছে- এ বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ১ হাজার ১৩টি ঘটনায় ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৩৯৮টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৭ জন। কারাগারে মারা গেছেন ৯৫ জন বন্দি; আর নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৫১৮ জন সাংবাদিক। 


অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য। এর লাগাম টেনে ধরার এখনই সময়। এ পরিস্থিতি আর কোনোভাবেই বাড়তে দেয়া যায় না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিই যখন উন্নয়ন-অগ্রগতির পূর্ব শর্ত- তখন পরিস্থিতি উন্নয়নের দিকেই অধিক মনোযোগী হওয়া উচিৎ হবে। সহনশীল দৃষ্টিভঙ্গি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি যে অত্যন্ত ভহাবহ কিছু হবে- সে আশংকা কোনোভাবোই উড়িয়ে দেয়া যায় না। সময়ের কাজ সময়ে করলেই কল্যাণ।