পুঠিয়ায় জমাট বাঁধা সার গুঁড়া করার ভিডিও ফেসবুকে, গুদাম ঘেরাও
রাজশাহীর পুঠিয়ায় একটি গুদামে জমাট বাঁধা টিএসপি সার হাতুড়ি দিয়ে গুঁড়া করার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ৫৫৩ বস্তা সারভর্তি গুদাম ঘিরে রাখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে গুদামের তালা খুলে এসব সার পাওয়া যায়। সারগুলো ব্যবহারের উপযোগী কি না, তা জানতে রাসায়নিক পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তবে সারগুলো কীভাবে আনা হয়েছে এবং এর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের বালিয়াঘাটা সোনারপাড়া গ্রামের একটি বাড়িসংলগ্ন গুদামে। খবর পেয়ে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে সেখানে যান পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রসনজিৎ সাহা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গুদামের তালা খোলা হলে ৫৫৩ বস্তা ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার পাওয়া যায়। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম থেকে এসব সার আনা হয়।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পুঠিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, সারগুলোর কার্যকারিতা আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে রাসায়নিক পরীক্ষা প্রয়োজন। পরীক্ষায় সারগুলো ব্যবহারের উপযোগী প্রমাণিত হলে কৃষকদের কাছে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। আর ব্যবহার অনুপযোগী হলে সেগুলো ধ্বংস করা হবে। ইতিমধ্যে সারের নমুনা পরীক্ষার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৫৫৩ বস্তা সার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সার আনার পর থেকেই এলাকাবাসী গুদামটির ওপর নজর রাখছিলেন। জমাট বাঁধা সার গুঁড়া করার সময় কেউ একজন ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার ( ২৪ অক্টোবর) বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দারা গুদামটি ঘিরে রাখেন। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রোববার ( ২৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকারও গুদামটি পরিদর্শন করেন। এ সময় সারের মালিক মাইনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গুদামের সামনে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়ে সেটি ঘিরে রেখেছেন। অন্য একটি ভিডিওতে ভেজা ও জমাট বাঁধা সার হাতুড়ি দিয়ে ভাঙতে দেখা যায়। রাতে সারের মালিক উপস্থিত না থাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) চলে যেতে চাইলে এক বাসিন্দা গুদামটি সিলগালা ও পাহারার ব্যবস্থা না করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জবাবে প্রসনজিৎ সাহাকে বলতে শোনা যায়, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তারা সেখানে গেছেন। মামলা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা একটি রসিদে ‘ডেলিভারি চালান, ভেজা/নষ্ট পণ্য’ লেখা রয়েছে। এতে এমভি মুনতাহা হোসেন নামের একটি লাইটার জাহাজ থেকে মি. ওসমানকে (আফসার) পণ্য সরবরাহের অনুমতির উল্লেখ আছে। রসিদটিতে সাল সা বিলা শিপিং লাইনসের অ্যাকাউন্টস অফিসার আবদুল কাদেরের স্বাক্ষর রয়েছে।
সারের মালিক মাইনুল ইসলামের বানেশ্বর বাজারে ‘রহমান স্টোর’ নামে একটি মুদিদোকান রয়েছে। তিনি স্থানীয় মতিউর রহমানের কাছ থেকে গুদামটি ভাড়া নিয়েছেন। তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে মাইনুলের বরাত দিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার জানান, মাইনুল কোনো সারের ডিলার নন। এসব সার আনার বিষয়ে কৃষি অফিসকেও জানানো হয়নি। পুকুর ও বাগানে ব্যবহারের জন্য সারগুলো আনা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে পুকুর ও বাগান কোথায়, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
সারগুলোর প্রকৃত অবস্থা, ব্যবহারের উপযোগিতা এবং সেগুলো আনার বৈধতা—সবকিছুই এখন যাচাইয়ের অপেক্ষায়। রাসায়নিক পরীক্ষার ফল ও প্রশাসনিক তদন্তের পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।