সার ডিলার নিয়োগে নানা অভিযোগ
সংসদীয় কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন হোক
কৃষিতে সারের অপরিহার্যতা বলার অপেক্ষা রাখে না। খাদ্য উৎপাদনে সকল প্রকার সারের চাহিদা বছরজুড়ে। সারের বাজার ব্যবস্থা সামান্য নড়চড় কিংবা অনিয়ম হলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়- একই ভাবে ফলনেরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। খাদ্য নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি করে। স্বাভাবিকভাবেই সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনোরূপ ত্রুটির সুযোগ থাকা উচিৎ নয়।
ইতোমধ্যে সারের বিতরণ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা লক্ষা করা যাচ্ছে। কোথাও কোথোও কৃষকরা সারা রাত ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কিনতে পারছেন না। একইভাবে সারের ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে- ডিলার নিয়োগ দলীয়করণ, আত্মীয়করণ করা হচ্ছে। এসব তথ্য সংবাদ মাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই প্রকাশ হচ্ছে। এখনই সময়, কালবিলম্ব না করে সারের বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটি বা অনিয়ম দূর করে কৃষিতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা বাঞ্ছনীয়।
কৃষি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব অনিয়ম- অব্যস্থার কথা উঠে এসেছে। কমিটির সংসদ সদস্যরা অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে, লালমনিরহাট, বরগুনা, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, নওগাঁ ও যশোর জেলার ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কৃষি মন্ত্রণালয় বলেছে, অভিযোগ যাচাই করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কিন্তু এই অভিযোগগুলো তো অনেক দিন ধরে চলে আসছে- অথচ দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় নি। সারা দেশে কৃষকের লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে আসলেও তা সংশ্লিষ্টদের কাছে গুরুত্বহীন থেকে গেছে। যখন সংসদীয় কমিটি বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করছে- কেবল তখনই অভিযোগ যাচাই করার কথা বলা হচ্ছে- এমনটি হওয়ার কথা নয়। সংবাদ মাধ্যমের খবর বিবেচনায় নিয়ে অভিযোগ যাচাই কিংবা তদন্ত করে দেখা গেলে কৃষকের বিড়ম্বনা অনেকটাই কমতো। এটি এমন এক সমস্যা যা আড়াল করতে চাইলে পরিস্থিতি আরো জটিল হবে। সম্ভবত সেটিই হয়েছে।
সংসদীয় কমিটি যখন বিষয়টিকে তাদের গোচরে নিয়েছে সে ক্ষেত্রে আশা করাই যায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে। শিগগিরই তদন্ত সাপেক্ষে সারের বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে দায়ি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।