বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬

মেয়াদ শেষ, রাকসু নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা!

সোনার দেশ ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০২ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০২ অপরাহ্ন
মেয়াদ শেষ, রাকসু নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা!

প্রত্যাশা গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকবে

৩৫ বছরের অচলায়তন ভেঙে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতন্ত্রের নতুন স্বপ্ন জাগিয়েছিল। কিন্তু এক বছরের মাথায় সেই স্বপ্ন আবারও অনিশ্চয়তায়। নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ, অথচ পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল নেই, সময়সীমা নেই, নেই দৃশ্যমান প্রস্তুতিও। নির্বাচনের আগে নিয়মিত রাকসুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখন প্রশাসনের বক্তব্য—পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুকূলে থাকতে হবে। প্রশ্ন হলো, সেই অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার? তিন যুগের অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া ছাত্র সংসদ কি আবারও অনির্দিষ্টকালের অচলায়তনে আটকে যাবে?


রাকসুর গঠনতন্ত্রে নির্বাচিত নির্বাহী কমিটির মেয়াদ এক বছর। সেই বিধান অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট রূপরেখা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন আয়োজনের কথা বলছে, কিন্তু কবে, কীভাবে এবং কোন প্রস্তুতির ভিত্তিতে—তার উত্তর মিলছে না। ‘পরিবেশ-পরিস্থিতি’র কথা বলা সহজ; কিন্তু কোন পরিস্থিতি নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করছে, তা চিহ্নিত করা এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই প্রশাসনের দায়িত্ব। অস্পষ্টতার আড়ালে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করতে পারে।


ছাত্র সংসদ কেবল নির্বাচিত কয়েকজন প্রতিনিধির পদ-পদবি নয়; এটি শিক্ষার্থীদের দাবি তুলে ধরা, নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার গণতান্ত্রিক মঞ্চ। রাকসু নিষ্ক্রিয় হলে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব দুর্বল হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা। দীর্ঘ বিরতির পর নির্বাচন আয়োজনের যে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছিল, তা ধরে রাখতে হলে নিয়মিত নির্বাচনকে ব্যতিক্রম নয়, প্রতিষ্ঠিত রীতিতে পরিণত করতে হবে।


রাকসুর নেতৃত্ব ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনও দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। ফলে বিষয়টি কোনো একটি পক্ষের রাজনৈতিক স্বার্থে সীমাবদ্ধ নয়; এটি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্ন। গঠনতন্ত্র সংশোধন প্রয়োজন হলে তা দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে, নির্বাচনী প্রস্তুতির ঘাটতি থাকলে তা দূর করতে হবে। প্রশাসনকে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতার ব্যাখ্যা দিয়ে বসে না থেকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য সময়সীমা ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।


আমরা মনে করি, রাকসু নির্বাচন নিয়ে আর অস্পষ্ট আশ্বাস নয়, প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। পরিবেশের অজুহাতে অনির্দিষ্টকাল নির্বাচন স্থগিত রাখার প্রবণতা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। তাই দ্রুত প্রস্তুতি শুরু, তফসিল ঘোষণার সময়সীমা নির্ধারণ এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। ৩৫ বছরের বিরতি শেষে ফিরে পাওয়া অধিকার যেন প্রশাসনিক অনিশ্চয়তায় আবার হারিয়ে না যায়। রাকসুর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হোক প্রতিশ্রুতিতে নয়, নিয়মিত নির্বাচনের বাস্তব চর্চায়।