শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬

পুঠিয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮০ লাখের ভবন, পাঁচ বছরেও শেষ নয়

সোনার দেশ ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১:২১ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১:২১ অপরাহ্ন
পুঠিয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮০ লাখের ভবন, পাঁচ বছরেও শেষ নয়

বিলম্ব ও অনিয়মের দায় নির্ধারণ করতে হবে


শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ভবন নির্মাণে ৮০ লাখ টাকা ব্যয়, অথচ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি কাজ। পুঠিয়ার পঁচামাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের ভবনে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ও পিলারের আস্তরণ খসে পড়ার ঘটনা সরকারি প্রকল্পের মান ও তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।


কলেজের অধ্যক্ষ, সভাপতি ও শিক্ষকদের অসন্তোষের পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রকৌশলীর বক্তব্যেও নির্মাণকাজের অনিয়মিত অগ্রগতির বিষয়টি উঠে এসেছে। অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে; নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও তারা অস্বীকার করেছে। ফলে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৌশলগত পরীক্ষা। তবে প্রশ্ন উঠতেই পারে, সরকারি অর্থায়নের একটি প্রকল্প বছরের পর বছর ঝুলে থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন?


নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের। কাজের মান যাচাই, ত্রুটি শনাক্ত এবং চুক্তি অনুযায়ী অগ্রগতি নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্বের অংশ। তাই শুধু ঠিকাদারের বক্তব্য বা আশ্বাসে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যাবে না। নির্মাণসামগ্রীর মান, কাঠামোর নিরাপত্তা, অর্থ বরাদ্দ এবং তদারকির নথি যাচাই করে বিলম্ব ও অনিয়মের দায় নির্ধারণ করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।


শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই অবহেলার বিষয় হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে দ্রুত ভবনটির কাঠামোগত মান পরীক্ষা করতে হবে। ত্রুটি পাওয়া গেলে তা সংশোধন করে মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর সংশয় থাকলে পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আগে ভবনটি ব্যবহারের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।


পঁচামাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের ভবন নির্মাণের ঘটনা যেন আরেকটি অসমাপ্ত প্রকল্পের তালিকায় হারিয়ে না যায়। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার, কাজের গুণগত মান এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব। দ্রুত তদন্ত, দায় নির্ধারণ ও মানসম্মত নির্মাণকাজ শেষ করার মধ্য দিয়েই এ দায়িত্ব পালনের প্রমাণ দিতে হবে।