শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬

বৃষ্টি বাগড়ায় রাজশাহী বিভাগীয় বইমেলা, বন্ধ অধিকাংশ স্টল

নিজস্ব প্রতিবেদক ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৮ অপরাহ্ন
বৃষ্টি বাগড়ায় রাজশাহী বিভাগীয় বইমেলা, বন্ধ অধিকাংশ স্টল

জমকালো উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে রাজশাহী বিভাগীয় বইমেলা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এই মেলা শুরু হয়েছে যা চলবে আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীর চাহিদা মাথায় রেখে রাজশাহী কালেক্টরেট মাঠে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। তবে বৃষ্টির বাগড়ায় এই মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের দেখা মিলছে না। মাঠে পানি জমে থাকায় বন্ধ হয়ে আছে অধিকাংশ স্টল।  


মাঠে কাদা ও পানি জমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, মেলার পরিবেশ ও স্থান নির্ধারণের বিষয়টি সঠিক নির্বাচনের অভাবেই এমন সমস্যার তৈরি হয়েছে। তবে আয়োজকদের দাবি, সময় ও স্থান নির্বাচন সঠিক হয়েছে। প্রাকৃতিক কারণেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।


শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিনে কালেক্টরেট দেখা যায়, বইমেলার প্রধান গেট থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত কাঁদা-পানি জমে আছে। সাময়িক সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট দূরত্বে একটি-দুইটি করে ইট বিছানো হয়েছে। আর সেই ইট পেরিয়েই লাইন ধরে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। অনুষ্ঠানের জন্য তৈরিকৃত মঞ্চের সামনের সারিবদ্ধ চেয়ারের নিচেও জমে আছে কাদা-পানি। আবার স্টলের সামনের মাঠে পানি-কাদায় জমে থাকায় বিপাকে পড়েছেন বিক্রেতারা। অনেকে দোকান বন্ধ রেখেছেন।  


আয়োজকেরা জানান, প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। তবে সরকারি ছুটির দিনে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা মেলা ঘুরে দেখতে পারবেন। মেলায় বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২৯টি স্টল অংশ নেবে। বই প্রদর্শন ও বিক্রির পাশাপাশি মেলায় প্রতিদিন আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এসব অনুষ্ঠানে রাজশাহীসহ বিভাগের আট জেলার শিল্পীরা অংশ নেবেন।


আয়োজকদের আশা, এ বইমেলা মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানচর্চার প্রসার এবং প্রকাশনা শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি এবং লেখক ও পাঠকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।


মেলায় দুই সন্তানকে নিয়ে আফসানা বেগম নামের এক নারী বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন বলে সন্তানদের মেলায় নিয়ে আসলাম। দেখছি অধিকাংশ স্টল বন্ধ হয়ে আছে। মাঠে কাদাপানি জমে আছে। স্টলগুলো কখন খুলবে কেউ বলতে পারলো না।


রেজাউল ইসলাম নামের আরেকজন বলেন, মেলায় ঢুকতেই কাদাপানি। বৃষ্টিতে মাঠ নষ্ট হয়ে গেছে। দেখে মনে হচ্ছে খেলার মাঠ। কোন স্টলও খোলা নাই।  


আগামী প্রকাশনীর বিক্রেতা জুবায়ের আহমেদ বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বৃষ্টির দেখা মিলেছে। একারণে মাঠে কাদা-পানি জমে আছে। দুইদিনে একটি বইও বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে স্টল বন্ধ রাখতে হচ্ছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বিক্রেতা বলেন, মেলার সার্বিক যে পরিস্থিতি, বিশেষ করে বৃষ্টির কারণে সমস্যার তৈরি হয়েছে। আমাদের এখানে কাস্টমার কম। এছাড়াও মেলার অব্যবস্থাপনা দেখতে পারছি, পুরো স্টলটাই পানিতে ভিজে আছে। যেখানে দাড়িয়ে বিক্রি করছি সেখানেও গোড়ালি পর্যন্ত পানি। এই অবস্থার কারণে আমাদের এখানে কাস্টমার কম। বন্ধ না করা ছাড়া উপায় নাই।


জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইনামুল হক বলেন, রাজশাহীতে আমরা প্রতিবার খুব ভালো সাড়া পায়। গতবছরও এই জায়গায় আমরা বইমেলা করেছিলাম। গতবারেও বৃষ্টি হলেও তা পরে ঠিক হয়ে গিয়েছিল। এখানে অনেক ক্রেতা আছে। বৃষ্টি কমে গেলে ক্রেতারা আসতে শুরু করবে। আমরা প্রতিদিনই একটা রিপোর্ট রাখছি, কোন স্টলে কতটি বই বিক্রি হচ্ছে। আমার বিশ্বাস, যে পরিমাণ পাঠক দেখছি, ভালো একটা বইমেলা বা ব্যবসাবান্ধব বইমেলা আমরা রাজশাহীতে পাবো।