চাঁপাইনবাবগঞ্জে নেই প্রকৃত কৃষকের হালনাগাদ তালিকা
সারের সংকট কেন?
ফসলের মৌসুমে সার পেতে কৃষকের ভোগান্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি দামে সার না পেয়ে কৃষকদের ডিলার পয়েন্টে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোথাও ঘটছে হট্টগোল ও হাতাহাতি। অথচ খুচরা বাজারে বাড়তি টাকা দিলেই সার মিলছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতি কৃষি বিভাগের চাহিদা নিরূপণ ও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে।
চলতি অর্থবছরে জেলায় চার ধরনের সারের চাহিদা ১ লাখ ১৪ হাজার ৮৭৩ মেট্রিক টন। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৩৩৬ মেট্রিক টন। ঘাটতি ১৩ হাজার ৫৩৭ মেট্রিক টন। অথচ কৃষি বিভাগের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ রয়েছে, সারের কোনো সংকটও নেই। মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে দাফতরিক এই বক্তব্যের অসংগতি স্পষ্ট।
সংকটের অন্যতম কারণ প্রকৃত কৃষকের হালনাগাদ তালিকা না থাকা। কোন এলাকায় কত জমিতে কী ফসল হচ্ছে এবং কতটুকু সার প্রয়োজন, তার নির্ভুল হিসাব ছাড়া বরাদ্দ নির্ধারণ করলে সংকট তৈরি হবেই। জেলার ৪৫টি ইউনিয়নের ফসলের ধরন ও আবাদ পরিস্থিতি এক নয়। তাই এলাকাভিত্তিক চাহিদা নিরূপণ ছাড়া সুষম বণ্টন সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি সরকারি দামে সার না পাওয়ার অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা দরকার। কৃষকদের দাবি, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। ডিলার পয়েন্টে সার না মিললেও খুচরা বাজারে বাড়তি দামে পাওয়া যাচ্ছে কীভাবে? ডিলারদের মজুত, বরাদ্দ ও বিক্রির হিসাব যাচাই করলেই অনিয়মের চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। দায়ীদের বিরুদ্ধে নিতে হবে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা।
কৃষকদের আগাম সার কেনা কিংবা অতিরিক্ত ব্যবহারের প্রবণতা থাকলে তা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগও জরুরি। তবে এসব যুক্তিতে সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা আড়াল করা যাবে না। কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব শুধু বরাদ্দ দেওয়া নয়, প্রকৃত কৃষকের চাহিদা নিরূপণ ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করাও।
এখনই ইউনিয়নভিত্তিক কৃষকের তালিকা তৈরি, ফসল ও জমির পরিমাণ অনুযায়ী বরাদ্দ এবং ডিলার পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেই কৃষকের প্রয়োজন মেটে না। সময়মতো সার না পেলে ব্যাহত হবে আবাদ, বাড়বে উৎপাদন ব্যয়। তাই সার নিয়ে দাফতরিক আশ্বাস নয়, কৃষকের হাতে সার পৌঁছানোর নিশ্চয়তাই এখন সবচেয়ে জরুরি।