সোমবার, নভেম্বর ০২, ২০২৬

বরেন্দ্র অঞ্চলের পরিবেশ-প্রতিবেশ নিয়ে সংলাপ

সোনার দেশ ০১ নভেম্বর ২০২৬ ১১:৩৬ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০১ নভেম্বর ২০২৬ ১১:৩৬ অপরাহ্ন
বরেন্দ্র অঞ্চলের পরিবেশ-প্রতিবেশ নিয়ে সংলাপ

ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সামাজিক ব্যবস্থাপনা চাই

রাজশাহীতে বরেন্দ্র অঞ্চলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পানি-সংকট মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইয়ুথ ইন রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ (ইউরিচ)-এর আয়োজনে নগরীর একটি কনভেনশন হলে এ সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার। সংলাপে কি-নোট স্পিকার ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের পরিচালক প্রফেসর মো. গোলাম মোস্তফা।


প্যানেল আলোচনায় বরেন্দ্র অঞ্চলের পরিবেশ ও পানিসম্পদ রক্ষায় আটটি প্রধান অঙ্গীকার গ্রহণ করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ ও জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করা, খাল-পুকুর উদ্ধার ও ভূপৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বাড়ানো, স্বল্প পানি-নির্ভর ফসলের চাষ এবং কৃষকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, তাপপ্রবাহ ও খরায় স্বাস্থ্য সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও স্থায়ী বাজেট নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে তদারকি জোরদার করা।


বরেন্দ্র-ভূমির সমস্যা সমাধানের উপায় সন্ধানে এই সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে- এমন প্রত্যাশা করা যায়। সংলাপে যে ৮টি অঙ্গীকার ঘোষিত হয়েছে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পদক্ষেপগুলো কেমন হবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। 


বরেন্দ্র ভূমি মূলত দেশের খরাঞ্চল হিসেবেই বিবেচিত হয়। এখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের গড় ১৩ শো থেকে ১৪ শো মিলিমিটার। অথচ জাতীয় গড় ২৫০০ মিলি মিটার। ভরা বরষায় বরেন্দ্রের কিছু এলাকায় খরা-প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এ অঞ্চলের পানির জন্য হাহাকার আছে, পানিই মূল সমস্যা। এ অঞ্চলের পানির সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কথা বারবার উঠে আসে। কিন্তু বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা হয়-এমনটি লক্ষ্য করা যায় না। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতাই লক্ষ্য করা যায়। খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ শতকের নব্বুইয়ের দশকের গোড়ার দিকে ধানচাষের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকারের উদ্যোগও আছে- কিন্তু বাস্তবে তা প্রতিফলিত হচ্ছে না। যচ্ছেতাইভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে সুদূর প্রসারি বিপর্য়য়ের কোনো আশংকা আছে কী না সে বিষয়টিও উপেক্ষিত হয়ে আসছে। এ ব্যাপারে দাবি আছে, কিন্তু কোনো উদ্যোগ নাই। এ অঞ্চলের মানুষদের আশ্বস্ত করতেও গবেষণা তথ্য থাকা দরকার।


বরেন্দ্র অঞ্চলের বিশেষ করে বোরো ধান আবাদে বেশি পানির প্রয়োজন হয়। মার্চ এপ্রিল ও মে মাস- তিন মাস সেচের জন্য নির্বিচারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হয়। অথচ এমন একটি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা দরকার, যাতে করে উল্লিখিত তিন মাস ভূউপরিস্থ পানির আধার তৈরি করা সম্ভব হয়। সম্ভাবনা আছে- কিন্তু বিষয়টি আমলে নেয় হয় না। অভ্যন্তরীণ খাড়ি, খাল-বিল. নদী-নালাগুলোকে দখলমুক্ত করে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বৃষ্টির পানির আধার গড়ে তোলার কথা কয়েক দশক ধরেই চলে আসছে-কিন্তু এর বাস্তব কোনো উদ্যোগ নাই। এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা খুবই গুরুত্বপর্ণ। জলাশয়গুলো সংরক্ষণ, সংস্কার ও ব্যবস্থাপনায় জনসম্পৃক্ততার গুরুত্ব অপরিসীম। সামাজিক ব্যবস্থাপনা ব্যতিত বরেন্দ্রের সমস্যা সমাধান দূর-পরাহতই থেকে যাবে।