মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬

চিরকুটে লেখা ‘আমার মৃত্যুর জন্য সুমাইয়া দায়ী’

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ০২ নভেম্বর ২০২৬ ১০:২১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ০২ নভেম্বর ২০২৬ ১০:২১ অপরাহ্ন
চিরকুটে লেখা ‘আমার মৃত্যুর জন্য সুমাইয়া দায়ী’

পাবনার ঈশ্বরদীতে হৃদয় প্রামাণিক (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  রোববার রাতে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়াড় সাহাপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 


জানা গেছে, মরদেহের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে, এতে নিজের মৃত্যুর জন্য স্ত্রী সুমাইয়াকে দায়ী করেছেন হৃদয়। নিহত হৃদয় উপজেলার মানিকনগর পশ্চিমপাড়া এলাকার আনজারুল প্রামাণিকের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। তার লাশের পাশে রাখা চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য সুমাইয়া দায়ী।’ আমার ছেলেকে মেরেছে শরীফ। আমার জন্য দোয়া করবেন।’ পুলিশ চিরকুটটি উদ্ধার করেছে।


স্বজনরা জানান, স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দিয়াড় সাহাপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন হৃদয়। তিন দিন আগে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী সুমাইয়া বাবার বাড়িতে চলে যান। স্ত্রী চলে যাওয়ায় হৃদয় হতাশাগ্রস্ত ছিলেন।


স্থানীয়দের ভাষ্য, রোববার দুপুর থেকে ওই বাসার দরজা বন্ধ ছিল। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও ঘর থেকে কোন সাড়া  না পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাকে বারবার ডাকাডাকি করেন। এতেও কোনো সাড়া না পেয়ে হৃদয়ের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। স্বজনরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুকুল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে।


গতকাল সোমবার তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় মরদেহের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, প্রায় এক মাস আগে হৃদয়ের স্ত্রী সুমাইয়া একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পাঁচ দিন পর শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটির মৃত্যুর জন্যও তার স্ত্রীকে দায়ি করেন হৃদয়।