ঈশ্বরদী ইপিজেডের হেয়ার কারখানায় ২ শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:
পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডের একটি চুল প্রক্রিয়াজাত করণ প্রতিষ্ঠানে হঠাৎ গণহারে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই প্রতিষ্ঠানে তাৎক্ষনিক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঈশ্বরদী ইপিজেডের অভ্যন্তরে ‘বাংলাদেশ হাইজিনটোন হেয়ার প্রোডাক্টস্ কোং লিমিটেড’ নামের এই প্রতিষ্ঠানে অসুস্থ হয়ে পড়া ২ শতাধিক শ্রমিকদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেপজা হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। শনিবার (১৫ নভেম্বর) ঈশ্বরদী ইপিজেডে এ ঘটনা ঘটে। ইপিজেড কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অসুস্থ্য শ্রমিকরা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশ হাইজিনটোন হেয়ার প্রোডাক্টস্ কোং লিমিটেডে কর্মরত খাদিজা বেগম, মুর্শিদা খাতুন, সুমাইয়া খাতুন, রোজিনা আক্তার, ইসমাইল বাবু, রোকসানা খাতুন, লিয়ন হোসেনসহ অসংখ্য অসুস্থ্য শ্রমিকরা বলেন, গত শনিবার সকাল ৯টার দিকে তারা কাজে যোগ দেওয়ার পরপরই এক ধরনের গ্যাসের গন্ধ অনুভব করেন। কিছুক্ষণ পরই তাদের শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা হয়ে কেউ মাথা ঘুরে পড়ে যান, কেউ বমি করতে শুরু করেন। এভাবে কিছুক্ষণের মধ্যে একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ইপিজেডের নিজস্ব দমকল বাহিনী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে ইপিজেড হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তাৎক্ষনিকভাবে প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়।
ঈশ্বরদী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলামসহ বেপজা কর্তৃপক্ষ সরেজমিন ওই প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (জরুরী বিভাগ) মো. উজ্জল হোসেন জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় ৪৫ জন ভর্তি হয়েছেন। কিছুক্ষণ পরপরই চিকিৎসার জন্য রোগী আসছেন বলে জানান তিনি। বেড সংকুলান না হওয়ায় তাদের বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. ইব্রাহিম হোসেন রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জানান, অক্সিজেন স্বল্পতায় শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধাগ্রস্থ হয়ে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ইপিজেড হাসপাতাল ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আরো প্রায় দেড়শ’ শ্রমিকদের কেউ চিকিৎসা নিয়েছেন। অনেকে ভর্তি রয়েছেন।
ঈশ্বরদী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা সরেজমিন ওই প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে জানতে পেরেছি বন্ধ এসি চালু করার পর এসির বাতাস স্বল্পতা ও গুমোট অবস্থার কারনে অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেয়। এতে দু’একজন নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে প্রায় ২ শতাধিক নারী শ্রমিকরা একজনের দেখাদেখি অন্যরাও এক ধরনের ‘পেনিক এ্যাটাক’ ও হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষনিকভাবে ওই প্রতিষ্ঠানে এক দিনের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।