শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ঈশ্বরদীতে এবার লক্ষ্যমাত্রা ব্রি ১০৩ ধানের ফলন বিঘায় হয়েছে ২৫ মণ

WP Import ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ০৫:০৮ অপরাহ্ন
WP Import ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ০৫:০৮ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীতে এবার লক্ষ্যমাত্রা ব্রি ১০৩ ধানের ফলন বিঘায় হয়েছে ২৫ মণ
ঈশ্বরদীতে এবার লক্ষ্যমাত্রা ব্রি ১০৩ ধানের ফলন বিঘায় হয়েছে ২৫ মণ


সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী (পাবনা) :


সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, অনুকূল আবহাওয়া, নির্ধারিত সময়ে কৃষি প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ, ধানের মাঠে কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যা ও পরিশ্রমের কারণে পাবনার ঈশ্বরদীতে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে আমন মৌসুমের রোপা আমনের উৎপাদন। ফলনও হয়েছে আশানুরূপ। নবান্নের আগেই এবার উপজেলার মাঠে মাঠে ধান কাটা শুরু হয়েছে।

কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নমুনা শস্য কর্তনও শুরু করা হয়েছে। উপজেলার আরামবাড়িয়ার গোপালপুর গ্রামে নমুনা ধান কাটার সময় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয় এবার ঈশ্বরদী উপজেলায় আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে। মাঠের ফলন ও উৎপাদন দেখে কর্মকর্তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ৩ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে কমবেশি ধানের আবাদ হলেও মুলাডুলি ও দাশুড়িয়া ইউনিয়নে ধান উৎপাদন তুলনামূলক বেশি হয়।

এ ছাড়া পৌরসভার ইস্তা ও নারিচা এলাকাতেও ধানের আবাদ উল্লেখযোগ্য। পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তিনি নিজের ১০ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মাঠের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ফলন ভালো হবে।’ নজরুল ইসলামের ভাষ্য, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এবার প্রতি বিঘায় ১৮ থেকে ২০ মণ ধান উৎপাদন হবে। তার হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘায় খরচ হয়েছে প্রায় ১১ হাজার টাকা।

বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায়। তিনি বলেন, ২০ মণ ধান বিক্রি করলে বিঘাপ্রতি ২৬ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। খরচ বাদে তার লাভ থাকবে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। সাঁড়াগোপালপুর গ্রামের কৃষক তানজিরুল আলম বলেন, ধানের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় বেশ ভালো হয়েছে।

উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুল আলীম জানান, এ ইউনিয়নে এবার ৩৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও উফশী জাতের আমন ধানের আবাদ হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি এবং অনুকুল আবহাওয়ার কারণে ধানের উৎপাদন ভালো হয়েছে বলে তিনি জানান। তার ভাষ্য, হাইব্রিড জাতের ধান বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২২ মণ এবং উফশী জাতের ধান ১৮ থেকে ২০ মণ পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, ‘মাঝে পোকার আক্রমণ হয়েছিল, তবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কারনে ধানের ক্ষেতে তেমন ক্ষতি হয়নি।’ ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন জানান, এবার ঈশ্বরদীতে আমন ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, ধান কর্তন ও মাড়াই করে দেখা গেছে, এবার ব্রি-১০৩ জাতের ধানের ফলন বিঘা প্রতি ২৪ থেকে ২৫ মণ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। সরকারের বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনার উপকরণ সময়মতো বিতরণ, উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও তদারকির কারণে ধানের ফলন ভালো হয়েছে।