শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ঈশ্বরদী গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ বিক্ষোভ

WP Import ১২ নভেম্বর ২০২৫ ০৩:০৯ অপরাহ্ন
WP Import ১২ নভেম্বর ২০২৫ ০৩:০৯ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদী গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ বিক্ষোভ
ঈশ্বরদী গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ বিক্ষোভ


ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :


পাবনার ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করেেছ। এসব ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে এলাকার গ্রামবাসী পুরুষদের সঙ্গে অংশ নেন গ্রামের শত শত নারীরাও। উপজেলার মানিকনগর সরদারপাড়া এলাকায় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা গতকাল বুধবার এ কর্মসূচি পালন করেন।

এসময় তারা অভিযুক্তদের বিচারের দাবি জানিয়ে শ্লোগান দিয়ে বলেন, গত সোমবার বিকেল ৬টার দিকে মানিকনগর মাষ্টারের মোড় এলাকায় পূর্ব শত্রুতা ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাবু মালিথার ছেলে রাব্বি মালিথার নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক আব্দুল মান্নান সরদারের দোকান ও বাড়িতে হামলা চালায়। পরে তারা ইয়ার আলীর বাড়িতে গিয়ে টিভি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। স্থানীয়রা প্রতিরোধে এগিয়ে ধাওয়া করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাব্বি মালিথার বাড়ির সামনে পৌঁছালে তিনি তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দুই পক্ষের সংঘর্ষ, হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও বাবু মালিথা নামে একজনকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় এখনো মানিকনগর সরদারপাড়া এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে পাল্টা অভিযোগে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে স্থানীয় একটি মাজারে নেতৃত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও ধানের শীষের মনোনয়ন প্রাপ্ত হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক বাবু মালিথা ও তার ছেলে রাব্বি মালিথার সঙ্গে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানবীর হাসান সুমনের সমর্থক পলাশ, হাসান, সবুজ সহ স্থানীয় যুবদল কর্মীদের সংঘর্ষ হয়।

ওই সংঘর্ষের ঘটনায় গত রোববার শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করে ঈশ্বরদীর থানায় উভয়পক্ষ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। এর সূত্র ধরে সোমবার সন্ধ্যায় আবারো সংঘর্ষে জড়ায় বিবাদমান দুই পক্ষ। যুবদল কর্মী হাসান ও সবুজের নেতৃত্বে বাবু মালিথার বাড়িতে হামলা, বাড়ি ভাঙচুর ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও পটকা ফোটানোর ঘটনা ঘটে।

বিপুল হোসেন মালিথা, দিপু হোসেনসহ এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার কিছুক্ষণ পর রাব্বি নামের এক যুবক নিজ বাড়ির বেড়া ভেঙে আগুন ধরিয়ে নিজেই ভিডিও করে যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। বিক্ষোভ সমাবেশে এসে ভুক্তভোগী কোহিনুর খাতুন অভিযোগ করেন, রাব্বি, রাজিব, সজিব, শফিকুল, জিম, কালাম, আলম ও বুদুসহ একটি দল এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা দোকানে বাকি রেখে টাকা না দেওয়া, টাকা চাইলে মারধর করা ও দোকান ভাঙচুর ও বাজে আচরণ করে। পাওনা টাকা চাইতে গেলে দোকানও ভেঙে দেয়। স্থানীয় শাহীন হোসেন বলেন, ভাইয়ের বিয়ের কেনাকাটা করতে গত শনিবার ভোরে বাজারে যাওয়ার সময় রাব্বি তার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর করে ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। এলাকাবাসী বলেন, চাঁদা না দিলেই ওরা ভয় দেখাতে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেও ফল মিলছে না।
ফারুক হোসেন বলেন, রাব্বিসহ তার দলবল অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা ছাড়াও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আল্লেক ব্যাপারী ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমানকে মারধর এবং তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে।

অভিযুক্ত রাব্বি মালিথার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ভাই রাজিব মালিথা এসব অভিযোগ সম্পর্কে দাবি করেন, এলাকার লোকজন আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে এবং আমার বাবাকে মারধর করে আহত করেছে। আমরা স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছি।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি) আ. স. ম. আব্দুর নূর বলেন, আগে দুই পক্ষের এজাহার জমা আছে তবে গত সোমবারের ঘটনায় গত দুদিনেও কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।