পচা চাল কেনায় বাধ্যতামূলক অবসরে রাজশাহীর খাদ্য কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিম্নমানের তামাটে-পচা চাল কিনে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া রাজশাহীর ভবানীগঞ্জ খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাচ্চু মিয়াকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জয়নাল মোল্লা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। বাচ্চু মিয়া উপ-খাদ্য পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
তাকে বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অথচ এই পদটি খাদ্য পরিদর্শকের। কয়েকজন পরিদর্শক থাকার পরেও বাচ্চু মিয়াকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি সেখানে কমপক্ষে তিন কোটি টাকার নি¤œমানের চাল কেনা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য সম্প্রতি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাচ্চু মিয়ার চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। তাকে জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন বলে সরকার মনে করে। তাই রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হলো।
চাল সংগ্রহের জন্য এবার বাগমারার তিনটি চালকল খাদ্যবিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। এগুলো- হলো কনক চালকল, আরাফাত চালকল ও ভাই ভাই চালকল। এসব চালকল থেকে ভবানীগঞ্জ খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া জেলার তানোর উপজেলার আবদুস সাত্তার চালকল, হড়গ্রামের বাদশা রাইস মিল, মোহনপুরের নুরজাহান চালকল, মাহফুজ চালকল ও মোল্লা চালকল থেকে ধান ছাঁটাই করে চাল এই গুদামে আনা হয়েছে। আটটি চালকল থেকে মোট ১ হাজার ২১১ মেট্রিক টন চাল আনা হয়েছে ভবানীগঞ্জ খাদ্যগুদামে।
সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে গুদামে নিম্নমানের চাল দেখা যায়। তামাটে রঙের পচা এই চাল খাওয়ার অনুপযোগী। বিষয়টি জানাজানি হলে গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে বাচ্চু মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, তিনি গুদামে সংরক্ষিত ভালো মানের চাল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতাবে পরিবর্তন করে অসৎ উদ্দেশ্যে নিম্নমানের চাল খামাল অভ্যন্তরে সুকৌশলে মজুত করেছেন।’
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বাচ্চু মিয়াকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেন নি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।