রামেক হাসপাতালে নেই এনআইসিইউ, ওয়ার্ডেই চিকিৎসা হয় নবজাতকের

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেই নবজাতকের জন্য নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (এনআইসিইউ)। এনআইসিইউ নবজাতকদের জন্য। আর নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) অসুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের সেবা দেয়া হয়। তবে রামেক হাসপাতালে এনআইসিইউ সুবিধা না থাকায় শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তবে এনআইসিইউ সেবা প্রয়োজন হয় প্রতিমানে কতজন শিশু রোগীর ও সেই সেবার কারণে প্রতিমাসে কতজন শিশুর মৃত্যু হচ্ছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি- রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় ও রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিস থেকে। তারা বলছেন- এসব তথ্য রামেক হাপসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানে। তবে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন- হাসপাতালে এনআইসিইউ নেই। তবে নবজাতকদের একটি শিশু ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় সবধরনের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট হাসপাতালের এমন একটি বিশেষ বিভাগ যেখানে জন্মের পর অসুস্থ বা অপরিণত শিশুদের (premature babies) জন্য ২৪ ঘণ্টা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যা দেওয়া হয়। যেমন- ইনকিউবেটর, ভেন্টিলেটর ও বিশেষ মনিটরের ব্যবস্থা থাকে। যা তাদের শ্বাস নিতে, উষ্ণ থাকতে ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে সাহায্য করে।
নবজাতক এনআইসিইউ-তে ভর্তির প্রয়োজন হয় কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে। তারমধ্যে অকাল জন্ম বা কম ওজন। ৩৭ সপ্তাহের আগে জন্ম নেওয়া বা জন্মের সময় ওজন কম থাকলে। শ্বাসকষ্ট, শরীরের কোনো অংশে সংক্রমণ, জন্মগতভাবে কোনো শারীরিক ত্রুটি বা জটিলতা, জন্ডিস গুরুতর পর্যায়ে থাকলে। এনআইসিইউ সুবিধা ও সরঞ্জাম-শিশুদের জন্য অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি থাকে। ইনকিউবেটর প্রয়োজন হয় শিশুকে উষ্ণ রাখার জন্য। ভেন্টিলেটর- শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক রাখার জন্য। মনিটর প্রয়োজন হয় শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করার জন্য। পুষ্টি সরবরাহের জন্যপ্রয়োজন হয় ফিডিং টিউব।
রোগী নাসিমার স্বজন বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের সন্তানের জন্ম হয়েছে। তার ওজনও কম। শারীরিক জটিলতাও রয়েছে। ওয়ার্ডে আলাদা রুমে চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা এনআইসিইউ বলতে বুঝি না। যদি এটা আইসিইউ এর মত হয় তাহলে প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, আইসিইউতে গুরুতর রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেই ক্ষেত্রে নবজাতক গুরুতর অসুস্থ হলে তারও ভালো চিকিৎসা হবে।
সম্প্রতি রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল তার ফেসবুকে লেখেছেন- রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ২০১১ সালে আইসিইউ চালু করা হয়। তৎকালীন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশরাফুল আলম সিদ্দিকী এর উদ্বোধন করেন। এটি রাজশাহী তথা উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের প্রথম ২ শয্যার আইসিইউ। গত ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত ১৩১১৬ জন মূমুর্ষ রোগীকে রামেক হাসপাতালের আইসিইউ-তে সেবা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৪০ শয্যা আইসিইউ কমপ্লেক্সে বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। এ বছরের মধ্যে রাজশাহীতে নবজাতকের জন্য একটি ১০ শয্যার (এনআইসিইউ) আইসিইউ এবং ১০ শয্যার প্যালিয়েটিভ ইউনিটের কার্যক্রম চালু করা হবে।
এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালে নেই নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (এনআইসিইউ)। তবে শিশুদের ওয়ার্ডে নবজাতদের সবধানের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে নবজাতদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে রাজশাহী স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. রোজী আরা খাতুন বলেন, এই তথ্য আমাদের কাছে নেই। এটা রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।