ঈশ্বরদীর ৫ গ্রামে এক রাতে ১২ বৈদ্যুতিক মিটার চুরি, ভোগান্তিতে মিল-কারখানার মালিকরা
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:
ঈশ্বরদীর ৫টি গ্রামে এক রাতে চুরি হয়েছে ১২টি চাল কলের বৈদ্যুতিক মিটার। সংঘবদ্ধ মিটার চোররা প্রতিটি মিটার চুরি করে নেওয়ার সময় বৈদ্যুতিক পিলারে তাদের বিকাশ নম্বর উল্লেখ করে প্রতিটি ‘মিটার ফেরত পেতে হলে ৬ হাজার টাকা বিকাশে পাঠালে নির্দিষ্ট স্থানে মিটার রেখে দেওয়া হবে’ বলে উল্লেখ করে গেছে।
রোববার রাতে পাবনার ঈশ্বরদীর জয়নগর, ছিলিমপুর, আওতাপাড়া, নতুন হাট মোড় ও কদিমপাড়া গ্রামে এই মিটার চুরির ঘটনা ঘটে। চাল কল মালিকরা জানান, ইতোমধ্যে বিকাশের মাধ্যমে ৬ হাজার করে টাকা পাঠিয়ে অনেকে তাদের মিটার ফেরতও পেয়েছেন। তবে চুরি হওয়া এসব মিটার ফিরে পাওয়ার পর তা পুন:সংযোগ স্থাপন করতে প্রতিটি মিটারে তাদের গুনতে হচ্ছে ৪০ থেকে প্রায় ৫০ হাজার করে টাকা। ছিলিমপুর গ্রামের ফকির রাইচ মিলের স্বত্বাধিকারী শরিফ ফকির জানান, মিটার চুরি হওয়ার পর তিনি বিকাশে টাকা দিয়ে মিটার ফেরত পেয়েছেন। সে মিটার নতুন করে পুন:সংযোগ স্থাপন করতে সংযোগ ফি ৩ হাজার টাকা, কিলোওয়াট প্রতি ১ হাজার টাকা হিসেবে ৩৫ কিলোওয়াটের একটি মিটারে ৩৫ হাজার টাকা, মিটার স্থাপনের জন্য আরো ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। কদিমপাড়ার ফার্নিচার কারখানার মালিক মাহাতাব উদ্দিন, জয়নগর শিমুলতলার আজিজুল রাইচ মিলের স্বত্বাধিকারী মো. আজিজুল, নতুন হাট মোড়ের ফকির রাইচ মিলের মালিক বাবলু ফকির, শিমুলতলার তেল মিল মালিক হেলাল উদ্দিনসহ ক্ষতিগ্রস্ত অন্যরা একই ধরনের তথ্য জানান।
এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী উপজেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক দুলাল মন্ডল বলেন, হাস্কিং চাল কলের ব্যবসা এমনিতেই লোকসানে পড়ে আছে তার ওপর এভাবে একের পর এক মিটার চুরি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। আমরা সম্মিলিতভাবে ব্যবসায়ীরা ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করে সংঘবদ্ধ মিটার চোর চক্রকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি। থানার ওসি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.স.ম. আব্দুন নূর বলেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে চেষ্টা করছি মিটার চোরদের আইনের আওতায় আনার জন্য।