সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

এক সপ্তায় ডায়রিয়ায় নাটোর হাসপাতালে ভর্তি হাজারের বেশী রোগি, সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন ৪৮৮ জন

WP Import ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:১০ পূর্বাহ্ন
WP Import ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:১০ পূর্বাহ্ন
এক সপ্তায় ডায়রিয়ায় নাটোর হাসপাতালে ভর্তি হাজারের বেশী রোগি, সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন ৪৮৮ জন
এক সপ্তায় ডায়রিয়ায় নাটোর হাসপাতালে ভর্তি হাজারের বেশী রোগি, সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন ৪৮৮ জন

নাটোর প্রতিনিধি:


নাটোর পৌর এলাকায় কয়েকটি মহল্লায় হঠাৎ ডায়রিয়ায় প্রকোপ মারাত্মকভাবে দেখা দিয়েছে। গত ৭ দিনে ১ হাজারের বেশী ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ৪৮৮ জন রোগী সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

এদিকে ডায়রিয়া প্রকপের কারণ জানতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে এজন্য তদন্ত নেমেছে আইইডিসিআর এর ৪ সদস্যের তদন্ত দল। অপরদিকে এ মহামারি মোকাবেলায় নাটোরে আসিছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনর ৭ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পানিবাহি থেকে এ ডায়রিয়া রোগ ছড়িয়েছে বলে মনে করবেন স্বাস্থ্য বিভাগ। এই পরিস্থিতিতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও নাটোর পৌর সভা যৌথভাবে কাজ করছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও নাটোর পৌর সূত্রে জানা যায়, গত (৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত শহরের ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের, ঝাউতলা,কাঠালবাড়িয়া, উত্তর চোকিরপার,পটুয়াপাড়া, বঙ্গজল এলাকার ১হাজার ১জন রোগী ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি ছাড়াও বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ৪০০ রোগী। এদের মধ্যে শিশু, বয়স্ক ও নারী রোগী বেশি।

হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগির চাপ বাড়াতে অতিরিক্ত আরো দুইটি পৃথক ওয়ার্ডে এই ডায়রিয়া রোগী রাখা হয়েছে।এতে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
পৌরবাসী ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার বলছেন, দীর্ঘদিন পানির লাইন অপরিষ্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভাল না থাকায় এবং পৌরসভার সরবরাহ পানি প্রাণ করে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছেন তারা।
পৌর এলাকার ১ প্রীতি দাস ও ২ ওয়ার্ডের হাসি বেগম,জুয়েল হোসেন জানিয়েছেন এ বছরে বর্ষাকালে দীর্ঘ জলাবদ্ধতা তাদের বাড়িঘর ডুবে গিয়েছিল জলাবদ্ধতার এই পানি নিষ্কাশনের ড্যানেজ ব্যবস্থা না থাকায় তাদের উঠোনে রান্নাঘরসহ বাড়ির আশেপাশে এখনো পানি জমে রয়েছে পানিতে বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা পোকামাকড় রয়েছে পৌরসভার সরবরাহকৃত পানির পাইপ লাইন এই জলাবদ্ধত পানির নিচ দিয়েই গিয়েছে তাদের ধারণা কোথায়ও লিক হয়ে এ ময়লা পানি পৌরসভার সরবরাহকৃত পানির সাথে মিশে গিয়েছে এবং সে পানি প্রাণ করে তারা ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছে।

সোমবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড ঝাউতলা সরকারি জায়গা রাস্তার দুই ধারে বসবাস করছে প্রায় ২০০ পরিবার।
এই পরিবারগুলোর জন্য সরকারিভাবে বিশুদ্ধ পানির জন্য বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল মাত্র ২ টি টিউবওয়েল সেই টিউওয়েল দুটিই নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে পরিবার গুলোর মধ্যে বিশুদ্ধ পানি জন্য রয়েছে হাহাকার তারা বাধ্য হয়ে পৌরসভার সরবরাহকৃত পানি প্রান করছে। ঢাকা থেকে আইসিডিসিআর এর তদন্ত টিম বলছে তাদের তদন্ত রিপোর্ট দিতে এখনো চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য বিভাগ, পৌরসভা, জেলা প্রশাসক একযোগে কাজ করছে।

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল মেডিক্যাল অফিসার মাহবুর রহমান জানান, গত রোববার পৌরসভার কাঠাল বাড়িয়া, চকির পাড় ও ঝাওতলা মহল্লা থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পুরুষ ৬৬ জন, মহিলা ৫৫ জন ও শিশু রোগী ২৬ জন ভর্তি হয়। এদের মধ্যে গুরতর অসুস্থ আছেন ১৭জন । হাসপাতালের সকল প্রস্তুতি নেয়া আছে। ওষুদেরও পর্যাপ্ত মজুদ আছে।

এদিকে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডা. ক্য থোয়াই প্রিন্সের নেতৃত্বে ডা. রাফিউল হাসান, টেকনোলজিস্ট লক্ষণ কর্মকার এবং আব্দুল কুদ্দুস নাটোর সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তারা রোগীদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন এবং ডায়রিয়া আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

এছারা (৬ সেপ্টেম্বর) জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এর একটি স্বাস্থ টিম নাটোর শহরের ঝাওতলা, ফুলবাগান প্রাথমিক স্কুল মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে পানি সংগ্রহ করে এবং সংগৃহীত পানি নমুনা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি (ওঈউউজ,ই)-তে পাঠানো হবে বলে জাানান টিমের সদস্যরা । পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেলে তা নাটোর জেলার সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নাটোরের সিভিল সার্জন মুক্তাদির আরোফিন জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৭দিনে ১ হাজার ১জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রুগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ৪৮৮ জন রুগী সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

এবিষয় আক্রান্তকৃত এলাকার মানুষকে পানি প্রান করার আগে পানি ফুটিয়ে পান করা মরার্শদেন এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিকরার লক্ষ্যে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাইকিং করাসহ, এই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজ করচ্ছেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে (৩ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক মিস আসমা শাহিন হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং রোগীদের শারীরিক খোঁজ-খবর নেন।

পরে ওই দিন ডাঃ রবিউল আওয়ালকে প্রধান করে (মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ) ৫ সদস্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। কমিটির অন্যরা হলেন, ডা. আবু সাইদ, ডা. সোহরাব হোসেন, ডা.নাজমা খাতুন, ডা.শ্রাবন্তি।
উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে নাটোর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কাঁঠালবাড়িয়া, চৌকিরপাড় ও ঝাঁউতলাসহ আশপাশের এলাকা থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী সদর হাসপাতালে ভর্তি হতে থাকে। রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, পৌরসভার সরবরাহ করা পানি খেয়ে তারা অসুস্থ হয়েছেন। তবে পানি পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে বগুড়ায় জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হলে ওই রিপোর্টে জানানো হয়, নমুনা পানিতে জীবাণু নেই।