নাটোরে ডায়রিয়ায় প্রকোপ মোকাবেলায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন চিকিৎসক দল

নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কয়েকটি মহল্লায় হঠাৎ ডায়রিয়ায় প্রাদুর্ভাবে ডায়রিয়া ব্যবব্যাপনার জন্য চিকিৎসক দল ও প্রয়োজনীয় ঔষধ পাঠিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (ZRF)।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জুবাইদা রহমানের সিদ্ধান্তক্রমে নাটোরে ডায়রিয়ার প্রকোপ মোকাবেলায় ডা. গালিব হাসান এর নেতেৃত্বে ডাক্তার ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ ৮ সদস্যের একটি বিশেষ মেডিকেল টিম প্রেরণ করা হয়। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নাটোর ২৫০ শর্য্যার আধুনিক সদর হাসপাতালে পৌছে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ডায়রিয়ার রুগীদের খোঁজখবর নেয়।
এসময় জেলার সিভিল সার্জন ডা. মুক্তাদির আরেফিন,মেডিকেল টিম ম্যানেজমেন্ট (তজঋ) জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এর সদস্য ও মেডিকেল অফিসার ডা. রেদোয়ান ফেরদৌস, ডা.ওয়াফি ইসলাম, ডা. কল্যাণময় দেব দীপ (শিশু বিশেষজ্ঞ) এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট,মামুনুর রশীদ, মিজানুর রহমান, শেখ ফয়সাল এবং অসীম ঘোষ।
এসময় জেলা বিএনপির বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন, সাইফুল ইসলাম আফতাব স্থানীয় সাংবাদিক ও বিএনপি নেতা নসিম উদ্দিন নাসিমসহ অন্যরা উপস্থি’ত ছিলেন। পরে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এর নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
এই টিম নাটোর শহরের ঝাওতলা, ফুলবাগান প্রাথমিক স্কুল মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে পানি সংগ্রহ করে এবং সেখান বসবাসকারীদের সাথে কথা বলেন। সংগৃহীত পানি নমুনা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি (ICDDR,B)-তে পাঠানো হবে বলে জাানান টিমের সদস্যরা । পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেলে তা নাটোর জেলার সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এই মানবিক উদ্যোগ নাটোরে ডায়রিয়ার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এবিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুক্তাদির আরেফিন জানান, শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত জেলা সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে প্রতি ঘন্টায় ১০জন করে রুগী ভর্তি হয়েছে। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) ১০০ জন পুরুষ, ৯৭ নারী ও ৪০ জন শিশু ভর্তি হন । তবে এরইমধ্যে ১০০ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। নতুন রোগী ভর্তি কমে এসেছে।
উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে নাটোর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কাঁঠালবাড়িয়া, চৌকিরপাড় ও ঝাঁউতলাসহ আশপাশের এলাকা থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী সদর হাসপাতালে ভর্তি হতে থাকে। রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, পৌরসভার সরবরাহ করা পানি খেয়ে তারা অসুস্থ্য’ হয়েছেন। তবে পানি পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে বগুড়ায় জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হলে ওই রিপোর্টে জানানো হয়, নমুনা পানিতে জীবাণু নেই।
এদিকে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডা. ক্য থোয়াই প্রিন্সের নেতৃত্বে ডা. রাফিউল হাসান, টেকনোলজিস্ট লক্ষণ কর্মকার এবং আব্দুল কুদ্দুস নাটোর সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তারা রোগীদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন এবং ডায়রিয়া আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।