বুধবার, মে ০৬, ২০২৬

প্রশস্ত ফুটপাত দখল ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৭ অপরাহ্ন
প্রশস্ত ফুটপাত দখল ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের

রাজশাহী মহানগরীতে সড়কের মতো চওড়া ফুটপাত। কোথাও আট ফুট আবার কোথাও তিন ফুট। তবে ব্যস্ততম এলাকার এই ফুটপাতগুলো দখল হয়েই থাকে। স্থানীয় দখলদাররা ফুটপাতের জায়গা দখল করে রেখেছেন। দিয়েছেন ভাড়া অথবা নিয়েছেন এককালীন টাকা। আর এই ফুটপাতে ব্যবসা করছেন ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা। এতে সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, ভোগান্তিতে পড়ছে পথচারীরা। ঘটছে দুর্ঘটনাও। 


রাজশাহী নগরীর আলুপট্টি থেকে রাজশাহী কলেজ, রেলগেট থেকে গণকপাড়া, লক্ষীপুর থেকে রেলগেট, শিরোইল, ভদ্রা, তালাইমারী, কাজলা, বিনোদপুর, কোর্ট স্টেশন, শালবাগান, নওদপাড়া এলাকার অধিকাংশ ফুটপাত দখল করা আছে। এসব স্থানের ফুটপাতগুলো দোকানের সম্প্রসারিত অংশ, হকার, অস্থায়ী দোকানপাট ও পার্ক করা যানবাহনে দখল হয়ে থাকছে। অনেক জায়গায় ফুটপাতগুলো কার্যত অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক স্থানে পরিণত হয়েছে। ফলে পথচারিদের হাঁটার জন্য কোনো জায়গা অবশিষ্ট থাকছে না। পথচারি, স্কুলপড়ুয়া ও অন্যান্যরা ব্যস্ত রাস্তায় চলন্ত যানবাহনের পাশ দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে ঘটছে দুর্ঘটনাও। 


ফুটপাত ব্যবহারকারীরা বলছেন, দৈনন্দিন চলাচল কঠিন ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে ব্যস্ততম সময়ে। অবৈধ দখলের জন্য সিটি করপোরেশন সেভাবে আইন প্রয়োগও করছে না। এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছাও দরকার। দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও এই দখলের সঙ্গে জড়িত।   


সাম্প্রতিক রিসার্চগেটে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় রাজশাহীর হাঁটার উপযোগিতাকে ১০০ এর মধ্যে মাত্র ৪৩ দশমিক ২০ রেটিং দেওয়া হয়েছে। যা ‘হাঁটার অনুপযোগী’ বিভাগে স্থান দিয়েছে। জনগোষ্ঠীর জন্য অবকাঠামোগত স্কোর আরও কম। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ দখলের ধারাবাহিকতায় চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা আছে। অভিযান চালানো হলেও আবার দোকান বসানো হয়। 


স্কুলশিক্ষক শওকত হোসেন বলেন, নগরীর ফুটপাতগুলো ব্যবহারযোগ্য না। আমাদের প্রতিদিন রাস্তায় হাঁটতে হয়। এ জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশার ভয় আছে। তারা নিয়ন্ত্রিত করতে পারে না। মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। 


অভিভাবকরা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যানজটপূর্ণ রাস্তায় চলাচল করতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে দেখা গেছে। অভিভাবক ফেরদৌসী রহমান বলেন, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ার কারণে ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে হেঁটে মেয়েকে স্কুল ও কোচিং ক্লাসে নিয়ে যেতে হয়। এতে শঙ্কার মধ্যে থাকতে হয়। 


সচেতন নাগরিক কমিটির রাজশাহী জেলার সভাপতি দীপক দাস বলেন, যারা ফুটপাথ দখল করে, তাদের প্রায়শই রাজনৈতিক মদদে থাকে। এমনকি ছোট হকাররাও ব্যবসা চালাতে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। নগরীর ফুটপাত যারা দখল করে রেখেছেন তাদের জীবিকার অন্য কোনো উপায় নেই। তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। 


রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাইমিনুল ইসলাম বলেন, মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়, কিন্তু ধারাবাহিক নজরদারির অভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফুটপাতগুলো পুনরায় দখল হয়ে যায়। অনানুষ্ঠানিক হকারদের জন্য পুনর্বাসন পরিকল্পনার অভাবে দখলের চক্র অব্যাহত রয়েছে।


রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, নিয়মিতভাবে উচ্ছেদ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেভ কিন্তু ফুটপাত পরিষ্কার রাখতে সকল অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন। দখলকৃত ফুটপাত উদ্ধার করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।